।। খুরশিদ জামান কাকন ।।
উন্নত দেশে শিশুরা মনের আনন্দে স্কুলগামী হয়, আর আমাদের দেশে স্কুল ছুটি হলে শিশুদের মনের আনন্দ আবিষ্কার করা যায়। খাঁচার পাখি সুযোগ পেলেই যেমন খোলা আকাশে বিচরণ করতে চায়, তেমনি আমাদের দেশের শিশুরা সুযোগ পেলেই স্কুল ফাকি দিতে চায়।
.
আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা শিশুদের কোণঠাসা করে ফেলেছে। স্কুলগামী হওয়া মাত্রই মাত্রাতিরিক্ত বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের উপর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রত্যহ বলপ্রয়োগ করে শিশুদের পড়াশোনা গেলানো হয়, তা সে ধারণক্ষম হোক আর না হোক।
.
উন্নত দেশে পাঠদানের পদ্ধতি শিশুদের কাছে বোধগম্য ও আনন্দের হলেও আমাদের দেশের পাঠদানের পদ্ধতি শিশুদের কাছে চরম বিরক্তিকর। আমাদের দেশের শিশুরা নিজেদের জীবনের লক্ষ নিজেরা বাছাই করার সুযোগ পায় না। তাদের উপর বাবা-মায়ের নির্ধারণ করা একটি লক্ষ চাপিয়ে দেয়া হয়, যা তারা পূরণ করতে না পারলে এ সমাজ তাকে ব্যর্থতার সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেয়।
.
নবম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্র রিফাত মন্ডলের কাছে তার “পড়াশোনা কেমন লাগে” তা জানতে চাইলে সে হতাশার স্বরে জানায়, “পড়াশোনা ভালো না লাগলেও তাকে ভালো ফলাফল করার লক্ষে দিনভোর স্কুল-প্রাইভেট-কোচিংয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। কারণ তার বাবা-মায়ের তাকে ঘিরে অনেক প্রত্যাশা”।
.
এদেশের অভিভাবকেরা শিশুদের ঘিরে অনেক প্রত্যাশার ছাপ একে বসে থাকে, অথচ রিফাতের মতো হাজারো শিশু সারাদিন স্কুল-প্রাইভেট-কোচিংয়ের পর বন্ধুদের সাথে মাঠে একটু খেলা করবে সে আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকে তা আমাদের অভিভাবকেরা দেখেও দেখে না।
.
বলা হয়ে থাকে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে। কিন্তু সবসময় কি আর পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়া সম্ভব?
শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে যেমন চাই যথাযথ শিক্ষার পরিবেশ তেমনি চাই পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা।
.
আমাদের দেশে শিশুদের মনের আনন্দ কেড়ে নিয়ে অহেতুক অত্যধিক বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়। যার ফলে শিশুরা মানুষিক চাপে ভুগতে থাকে। আর এ চাপ যারা কাটিয়ে উঠতে পারে তাদের এ শিক্ষাব্যবস্থা সফলতার সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেয়, আর যারা পারেনা তাদের সর্বস্তরে ব্যর্থ হিসেবে পরিগণিত হতে হয়।
.
এজন্যে সবার আগে প্রয়োজন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন। শিশুদের পড়াশোনায় আগ্রহী ও মনোযোগী করে তুলতে মজার ছলে, গল্পের ভানে, ছন্দে ছন্দে পাঠ দান করতে হবে, পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো আধুনিকায়ন করে পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।