• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ছাতকে চাল না পেয়ে হতদরিদ্রদের বিক্ষোভ

চান মিয়া, ছাতক (সুনামগঞ্জ): ছাতকে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির ১০টাকা কেজির চাল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ডিলাররা হতদরিদ্রদের চাল আত্মসাত করতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা ছল-ছাতুরী। অনেকে মাসের সব চাল বাজারে বিক্রি করে কার্ডধারীদের স্বাক্ষর রেখে চাল না দিয়েই খালি হাতে তাদেরে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে চলতি এপ্রিল মাসের চাল না পেয়ে শুক্রবার (২৮এপ্রিল) চরমহল্লাবাজারে বিক্ষোভ করেছেন হতদরিদ্ররা। চরমহল্লা ইউপির ১, ২, ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডের ডিলার জনৈক ফজলুল করিম ২০এপ্রিল সরকারি গুদাম থেকে ৭মেঃটন চাল উত্তোলন করেন। কিন্তু এগুলো চরমহল্লাবাজারে বিতরনের কথা থাকলেও বিতরন না করায় তারা এ বিক্ষোভ কর্মসূটি পালন করেন। জানা গেছে, কর্তৃপক্ষে সুষ্টু তদারকি না থাকায় ডিলাররা একমাসের চাল নেয়ার সময় একই সাথে দু’মাসের টিপ সহি রেখে প্রতারনার মাধ্যমে গরিবের চাল আত্মসাত করছেন। গত ২০এপ্রিল এসব ওয়ার্ডের ৭মেঃটন চাল সরকারি গুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়। এব্যাপারে ইউপি সদস্য আব্দুল মতিনও গিয়াস উদ্দিনসহ অনেকে জানান, এপ্রিল মাসের চাল হতদরিদ্রদের মধ্যে এখনো বিতরণ করা হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার আবুল হাসনাত জানান, ১০টাকা কেজির চাল ডিলাররা বিতরণ করে থাকেন। এগুলোর তদারকিও করেন সংশ্লিষ্টরা। এব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাহাব উদ্দিন অভিযোগ পেলে জড়িত ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

ছাতকে ১২হাজার হেক্টর ভূমির সাড়ে ৪শ’কোটি টাকার ক্ষতি
ছাতকে এবারে চৈত্র মাসের প্রথম দিকে আসা আগাম বন্যায় ১২হাজার হেক্টর জমির বোর ফসল একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উপজেলার ৮৪হাজার ৪শ’ ৩০পরিবারে নেমে চরম অমানিশা। বন্যায় সাড়ে চার শ’কোটি টাকার ক্ষতির সম্মূখিন হয়েছেন এলাকাবাসি। ১৩ইউনিয়নও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ছাতক উপজেলায় অন্যান্য এলাকার ন্যায় আগাম বন্যায় কৃষকের সব স্বপ্ন স্বাধ ভেঙ্গে দিয়েছে। এখানে পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১২হাজার হেক্টর জমির ফসল। এখানে ৮৪হাজার ৪শ’ ৩০টি পরিবার ছাড়াও আদিবাসি সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে ২হাজার ৮শ’ ২৬জন। এরমধ্যে অনেক পরিবার ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও সমাজের সকল শ্রেণীর পরিবার বিভিন্নভাবে কৃষি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। অনেকের জমি না থাকলেও জমি প্রান্তিক ও বর্গা নিয়ে ফসল ফলান। এখানে ১২টি খালের প্রায় সবগুলোই এখন কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে। সোয়া ৩লক্ষাধিক জনসংখ্যার এ উপজেলায় জলমহাল রয়েছে ৬০টি। এবারে ১১হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে বোর ফসল ফলানো হয়। এতে সাড়ে ৪শ’কোটি টকার চাল উৎপাদন হতো। কিন্তু বন্যায় তাদেরে একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। ফলে এখন ধনী-গরিব সবাই যেন এককাতারে এসে দাড়িয়েছেন। এরমধ্যে সরকারের বেশ কিছু উদ্যোগে কৃষক যেন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে ধান না ওঠায় গোখাদ্য সঙ্কট তীব্রতর হচ্ছে। এঅবস্থায় অনেকে পানির দরে বিক্রি করছেন গবাদিপশু। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসির উল্লাহ জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ১০হাজার কৃষকের নামে জনপ্রতি ৩ কেজি চাল ও নগদ ৫শ’টাকা করে বরাদ্ধ এসেছে। এগুলো ১২দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একে বদরুল হক জানান, আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ৩৮হাজার ২শ’ ৬জন কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। এদিকে সুনামগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা আসার খবরে এখন কৃষককূলে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। ধান, মাছ, হাঁস, গবাদিপশু ও সবজিসহ সব কিছু হারিয়ে নির্বাক ক্ষতিগ্রস্থদের জন্যে প্রধামন্ত্রী কি নতুন বার্তা নিয়ে আসছেন এ প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন ছাতকবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ