দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬নং আউলিয়াপুর ইউনয়ন পরিষদের ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জন্য ৯৩ লাখ ২৯ হাজার ৮৪৪ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (৩০ এপ্রিল) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে বাজেট ঘোষণা করেন ইউপি সচিব মো. আজিজার রহমান। পরে অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক।
বাজেটে ৯৩ লাখ ২৯ হাজার ৮৪৪ টাকা আয়, ৯২ লাখ ২৯ হাজার ২৮ টাকা ব্যয় ও ১ লাখ ৮১৬ টাকা উদ্বৃত্ত ধরা হয়েছে। বাজেটে আয়ের উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে রয়েছে বসতবাড়ীর বাৎসরিক মূল্যের উপর ধার্যকৃত কর আদায়, ব্যবসা পেশা ও জীবিকার উপর কর, পশু বিক্রি বাবত মালিকানা সার্টিফিকেট, নাগরিকত্ব ও চরিত্রগত সনদপত্র বাবদ আদায়, জন্ম নিবন্ধন ফি বাবত আদায়, হাট-বাজার ইজারা বাবত আদায়, খোয়ার ইজারা, এলজিএসপি-৩ প্রকল্প বাবত প্রাপ্ত আয়, এডিপি বাবদ প্রাপ্ত আয়, ইজিপিপি বাবদ প্রাপ্ত আয়, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা বাবদ প্রাপ্ত আয়, ইউপি সচিব ও অন্যান্য কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রাপ্ত আয়, ইউনিয়ন পরিষদ সহায়ক তহবিল হতে প্রাপ্ত আয়, উপজেলা পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত আয়, জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত আয়, ভুমি হস্তান্তর কর ইত্যাদি।
অপরদিকে ব্যয়ের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানী ভাতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা, ট্যাক্স-টোল ফিস আদায় কমিশন, স্টেশনারী ও প্রিন্টিং খরচ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সাহায্য প্রদান, জাতীয় উৎসব ও খেলা-ধুলা, রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ ও মেরামত ইত্যাদি।
বাজেট অধিবেশনে ইউপি সদস্য মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন, মোছাঃ মমিনা বেগম, মোছাঃ লাইলী আরা বেগম, মো. ইলিয়াস আলী, মো. মাহবুবুর রহমান, মো. মকসেদুল ইসলাম, মো. রবিউল ইসলাম, মো. আতাউর রহমান, মো. নুর আলম, মো. আব্দুল হালিম, মো. হামিদ মিয়া, ইউপি সচিব মো. আজিজার রহমান, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. আতিকুর রহমান, ইউনিয়ন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক দেলোয়ারা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক ইউনিয়নবাসি উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের জন্য ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ৭২ টাকা এবং ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের জন্য ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮২ টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছিল।
বিরলে বাড়ীতে আগুন: থানায় অভিযোগের পরেও প্রতিকার পায়নি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার
বিরল উপজেলার ১নং আজিমপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল করিম বাদশার বাড়ী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে একই গ্রামের মৃত শরাফ আলীর ছেলে হোসেন আলী ও তার সহযোগিরা। গত ২৫ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে বিরল থানায় অভিযোগের পরেও কোন প্রতিকার পাননি ক্ষতিগ্রস্থ বাদী আব্দুল করিম বাদশা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার ১নং আজিমপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর গ্রামের আব্দুল করিম বাদশাসহ শরিফুল ইসলাম ও শফিউল্লাহ ১৯৮৮ সালে স্থানীয় সতিশ চন্দ্র রায়ের নিকট থেকে ৭৫ শতক জমি ক্রয় করেন। কিন্ত উক্ত জমিটি মো. হোসেন আলী নিজের জমি বলে দাবি করেন। এ নিয়ে কয়েকবার উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং তাদের হামলায় আব্দুল করিম বাদশা ও তার পরিবারের লোকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই নিয়ে একাধিক মামলা ও পাল্টা মামলা, সালিশ বৈঠকও হয়েছে। তৎকালীন চেয়ারম্যান মৃত গোলাম হামিদুর রহমান সালিশের মাধ্যমে উক্ত জমির বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন।
কিন্তু সালিশকে উপেক্ষা করে পরবর্তিতে হোসেন আলী আবারো উক্ত তার জমি নিজের বলে দাবি করেন। আব্দুল করিম বাদশা নিজের জমিতে থাকা গাছ কাটতে গেলে জমিটি খাস বলে তাকে গাছ কাটতে বাধা দেয় হোসেন আলী ও তার সযোগিরা।
চলতি বছরের ২৯ মার্চ সকালে আবারো বিবাদী হোসেন আলী বাদী আব্দুল করিম বাদশার জমিতে ঘর উঠানোর প্রস্তুতি নেয় ও গাছ কর্তন করে। এতে বাধা দিতে গেলে হোসেন আলী ও তার সহযোগিরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুল করিম বাদশা ও তার পরিবারের লোকজনের উপর হামলা করে। পরে গ্রামবাসির সহায়তায় তারা রক্ষা পায়। তবে সন্ত্রাসী হোসেন আলী ও তার সহযোগিদের হুমকির কারণে বর্তমানে প্রাণের ভয়ে আব্দুল করিম বাদশা ও তার পরিবারের লোকজন রাতে নিজের বাড়ীতে থাকতে পারছেন না।
শুধু তাই নয়, গত ২৫ এপ্রিল হোসেন আলীর নেতৃত্ব তার ছেলে নুর মোহাম্মদ, রুহুল আমিন ও স্ত্রী সুফিয়া খাতুন আব্দুল করিম বাদশার বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনেক চেষ্টা করে আগুন নেভাতে পারলেও একটি ঘর পুড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র আব্দুল করিম বাদশার পক্ষে দলিল বৈধ কাগজপত্র থাকার পর তিনি ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না। হোসেন আলী একজন সন্ত্রাসী, ভুমিদস্যু ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক। তার অত্যাচারে গ্রামের অনেকেই অতিষ্ট। এ কারনে ওই পরিবারটিকে গ্রামবাসি একঘরে করে রেখেছে। তারা আব্দুল করিম বাদশাকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে। গ্রামবাসি হোসেন আলী ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দাবী জানিয়েছেন।