রংপুর: অবশেষে উদ্ধার হলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে উদ্ধার হলেন উপাচার্য। অবরুদ্ধ করার ১৪ ঘণ্টা পর গতকাল রাত পৌনে একটায় তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের তার আবাসস্থলে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। তারা হলো মোক্তার এলাহী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমতিয়াজ বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মৃতিশ চন্দ্র বর্মণ।
এর আগে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের চাকরির দাবিতে উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবীকে বুধবার সকাল ১১টা থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ছাত্রলীগের কেউ কেউ আবেদন করেছেন। তবে কারা করেছেন তা জানা যায়নি। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর একটি পক্ষ নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে হাইকোর্ট ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্থগিতের আদেশ দেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী ও অবরুদ্ধ করা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে উপাচার্যের কক্ষে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সভা চলছিল। সভা চলা অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নামে স্লোগান দিয়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কক্ষের সামনে বারান্দায় বসে পড়েন। এর নেতৃত্বে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।
উপাচার্যের কক্ষের সামনে অবস্থান নেয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মৃতিশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে ছাত্রলীগের নেতাদের অ্যাডহক ভিত্তিতে চাকরি দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। উপাচার্য স্যার বহুবার কথা দিয়েছেন। কিন্তু চাকরি আর হয়নি। কেননা আগামী ৫ মে তার চাকরির মেয়াদের শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত আমরা বাধ্য হয়েছি এভাবে আন্দোলন করতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সঙ্গে সভা চালাকালে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা এসে চাকরি দেয়ার দাবি জানায়। এই চাকরি আমি কীভাবে দেব? এটি দিতে পারে ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন)। এ ছাড়া সম্প্রতি ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও তা হাইকোর্টে রিট করার কারণে বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।