• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ঝিনাইদহ বিদ্যুত অফিসে লাইনম্যান এখন মৃত্যু পথযাত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ বিদ্যুত অফিসের (ওজোপাডিকো) লাইন ম্যানের সমস্ত কাজ গুলো সারা হয় গ্যাটিজ দিয়ে। ঠিক এমনই অবস্থায় লাইন ম্যানের কাজ করতে গিয়ে গ্যাটিজ শাহিন মোল্লা এখন মৃত্যু পথ যাত্রী। এঘটনার দায়ভার গ্রহন করতে ঝিনাইদহ বিদ্যুত বিতরন অধিদপ্তরের কেউই রাজি নন। এ অবস্থায় কে দেখবে শাহীনকে? দেখার যেন কেউই নেই। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে কাতর কন্ঠে ঘটনার বিস্তারিত বিবরন দিলেন শাহীন।
শাহীনের বর্ননা অনুযায়ী জানাগেছে, ৩রা এপ্রিল বুধবার দুপুর সাড়ে বারটার দিকে ঝিনাইদহ বিদ্যুত অফিসের (ওজোপাডিকো) লাইনম্যান মজিবর ও পরিতোষ গ্যাটিজ শাহীনকে বলেন, বিষয়খালী বোর্ড ঘরের সামনে ট্রান্সফরমারের নেগেটিভ বুস কেটে গেছে লাগাতে হবে। লাইনম্যান মজিবর ও পরিতোষ নিজের কাজ নিজে না করে গ্যাটিজ শাহীনকে তুলে দেন ১১ হাজার ভোল্টের ট্রান্সফরমারের নেগেটিভ বুসের তার লাগাতে।
ট্রান্সফরমারের নেগেটিভ বুসের কাজ করা অবস্থায় ঝিনাইদহ শহরের হামদহের সাবষ্টেশনের এসবিএ হাফিজ হঠাৎ করে লাইনের সুইজ অন করে দিলে শাহীন ১১ হাজার ভোল্টের তারে জড়িয়ে ঝুলতে থাকে। এমতবস্থায় খাম্বায় লাগানো বাঁশের মই দিয়ে নিচ থেকে মজিবর ও পরিতোষ ধাক্কা মেরে শাহীনকে মাটিতে ফেলে দেয়।  শাহীনের হাত, পা, উরু, বুকের পাশে চামড়া সহ মাংশ উঠে যায়। পরে লাইনম্যান মজিবর ও পরিতোষ শাহীনকে উদ্ধার করে পিকাপে তুলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সে সার্জারী ওয়ার্ডের ৯নং বেডে কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকদের কাছে তার করুন কষ্টের কথা বর্ননা করেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার রাশেদ আল মামুন তাকে চিকিৎসা দেন। ক্রমে ক্রমে অবস্থার অবনতি হলে ৪ঠা এপ্রিল ঢাকা বার্ন ইউনিটে তাকে রেফার্ড করা হয়। এখন সে ঢাকা বার্ন ইউনিটের ৫ম তলায় ১০৩ নং রুমের ১০ নং বেডে একই অবস্থায় আছেন বলে জানীয়েছেন শাহীন। এ ঘটনায় শাহীনের মা ও বোন রানু বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ঝিনাইদহ বিদ্যুত অফিসের (ওজোপাডিকো) লাইনম্যানেরা নিজের কাজ নিজে না করে গ্যাটিজ দিয়ে জটিল কাজগুলো করানোর জন্য বারংবার এধরনের মারাত্বক দুর্ঘটনা ঘটছে। লাইনম্যানের কাজ গ্যাটিজ দিয়ে করানো অবশ্যই অপরাধ, আর আমার ভাই শাহীনের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লাইনম্যান মজিবর ও পরিতোষ। আমি লাইনম্যান মজিবর ও পরিতোষের সর্বচ্চ শাস্তি দাবী করছি।
এব্যাপারে লাইনম্যান মজিবর ও পরিতোষের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে গেলে, মজিবর ফোন রিসিভ করেননি। আর পরিতোষ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলামনা, আমি কিচ্ছুই জানিনা। শাহীনের সার্কেলের ইঞ্জিনিয়ার নির্মলবাবু সাংবাদিকদের পরামর্শদেন এ সংবাদটি প্রকাশ না করতে। তিনি আরো বলেন, অফিসে আসেন চা খেতে খেতে কথা হবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝিনাইদহ বিদ্যুত অফিসের (ওজোপাডিকো) কর্মচারীরা জানিয়েছেন, বাইরের গ্যাটিজ দিয়ে গাড়ি চলানো ও লাইন সংযোগ সহ বিভিন্ন প্রকারের জটিল বৈদ্যুতিক কাজ কর্ম তাদেরকে দিয়ে করানো হয়।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ বিদ্যুত অফিসের (ওজোপাডিকো) কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন গ্যাটিজদের মধ্যে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় নেবুতলার মজনু মারা গেছে। সারা জীবনের মত পঙ্গু হয়ে গেছে খাজুরার মির্জা, পবহাটির খলিল, আরাপপুরের খোরশেদ।

ঝিনাইদহে বিশেষ অভিযানে ৬৪ জন গ্রেফতার
ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা ৬৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৬ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, জেলা ব্যাপী সন্ত্রাস, নাশকতা, জঙ্গিবাদ বিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে সদর থেকে ২০ জন, শৈলকুপা থেকে ৮ জন, হরিণাকুন্ডু থেকে ১০ জন, মহেশপুর থেকে ১২ জন, এবং কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর থেকে ১৪ কে গ্রেফতার করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় ২’শ ৬০ পিচ ইয়াবা, ১’শ ২০ বোতল ফেন্সিডিল ও ১’শ গ্রাম গাঁজা।  গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

শৈলকুপায় গৃহবধুর আত্মহত্যা
ঝিনাইদহ শৈলকুপায় বাবার বাড়ীতে ফাতেমা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে শৈলকুপা শহরের কবিরপুর মসজিদ পাড়ায়।
ফাতেমা শুক্রবার রাতে বাবার বাড়ীতে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে। সে কবিরপুর মসজিদ পাড়ার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। কি কারনে সে আতœহত্যা করেছে পরিবারের কেউ বলতে পারছে না। তার মৃতদেহ একনজর দেখতে শৈলকুপা হাসপাতালে স্থানীয়রা ভিড় জমায় এলাকাবাসি। শৈলকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে ।

ঝিনাইদহের সেই খালেদুর ভর্তি ও পড়ালেখার নিশ্চয়তা পেল
ঝিনাইদহ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী সেই খালেদুর রহমানের ভর্তি ও পড়ালেখার নিশ্চয়তা পেয়েছে পরিবারটি। সমাজের দানশীল ও মহানুভবতায় পরিপুর্ন মানুষগুলো পত্রপত্রিকা ও ফেসবুকে খবর পড়ে খালেদুরকে ভর্তি ও পড়ালেখার খরচ যোগাচ্ছেন। শনিবার ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু তার দপ্তরে ডেকে নিয়ে খালেদুর রহমানের সাথে কথা বলেন। মেয়র এ সময় তার বাবা খাইরুল ইসলামকে জানান, পড়ালেখার জন্য ছেলের যখন যা প্রয়োজন দেওয়া হবে।
মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু এর আগে অষ্টম শ্রেনীতে পড়ার সময় আর্থিক সহায়তা করেছিলেন খালেদুরকে। ঝিনাইদহ সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়নও খালেদুরের বাই, খাতা কলম ও পোশাক কিনে দিয়েছিলেন। বাবা খাইরুল ইসলামকে জানান,দেশ বিদেশের অনেক দানশীল মানুষ খালেদুর রহমানের বাবাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। কেও বা দিয়েছেন প্রতিশ্রুতি। ইটালি প্রবাসি সাংবাদিক কন্যা আইরিন পারভিন, নাজমুস সাকিব তথি, ফয়াসাল আশরাফ ও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম প্রেসক্লাবে এসে ছেলেটির কলেজে ভর্তির যাবতীয় খরচ দেবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
কাতার প্রবাসি ঝিনাইদহের এক ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা দিবেন বলে জানিয়েছেন। এর মধ্যে ফয়াসাল আশরাফ টাকা পাঠিয়েও দিয়েছেন। পলাশ মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিবেন বলে জানিয়েছেন। সাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তিপড়ালেখার মাসিক কত টাকা লাগবে জানিয়েছেন। এ রকম দানশীল ভাল মানুষদের কল্যানে মেধাবী মেধাবী খালেদুরের আর পড়ালেখার চিন্তা করতে হবে না বলে তার বাবা খাইরুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, উনিশ বছর চাকরী করে সরকারী বেতন পাননি।
পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেনীতে বৃত্তি লাভ করে ছেলে খালেদুর রহমানের যখন প্রবল ইচ্ছা জাগে ঝিনাইদহ সরকারী বালক বিদ্যালয়ে পড়তে, তখন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার লক্ষিপুর গ্রাম ছেড়ে ঝিনাইদহে আসেন নন এমপিও সহকারী শিক্ষক খাইরুল। তারা এখন ঝিনাইদহ শহরের বনানীপাড়ার লালন শাহ সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ