ঢাকা: ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাহিরের পরিচয়েই বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে রুম ভাড়া নিয়েছিলেন দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ। জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঘিরে ভাড়া করা রুমে অস্ত্রের মুখে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় দুই তরুণীকে। আর এ কাজে সহায়তাকারী হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগের এমপি বজলুল হক হারুনের ছেলে মাহির হারুন। এই মাহির হলেন সাফাতের বন্ধু। তার পরিচয়ে ওই হোটেলের কক্ষ ভাড়া করা ছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে মাহিরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সাফাতকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে শনিবার রাতেও বনানীর ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। বনানীর হোটেলটির অন্যতম মালিক হলেন মাহির।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, সাফাতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় তার বন্ধু পরিচয়ে হোটেলের দুটি কক্ষ ভাড়া নেয়ার বিষয়টি। তবে সাফাতরা ওই হোটেলে কী করেছেন, তা কোনো কর্মচারী দেখতেও আসেননি।
জানতে চাইলে নির্যাতিতা দুই তরুণীর একজন বলেন, তাদের জোর করে রুমে নেয়ার আগে হোটেলটির মালিক পরিচয় দেয় মাহির নামে একজন। তিনি সাফাতের জন্মদিন উপলক্ষে কেক নিয়েও তাদের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত স্বীকার করেছেন যে, হোটেলের ম্যানেজার মাহিরের নির্দেশে জন্মদিনের কেক নিয়ে যান।
ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি বিএইচ হারুন রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার তিন ছেলের মধ্যে মাহির হারুন সবার ছোট। তিনি সাফাতের বন্ধু।
গত ৬ মে বনানী থানায় সাফাত ও তার দুই বন্ধু সাদমান সাকিফ এবং নাঈম আশরাফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনার মামলাটি দায়ের হয়