সিসি নিউজ : বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদকে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও ডিবি পুলিশ।
পুরান ঢাকার নবাবপুরের ইব্রাহিম রেসিডেন্সিয়াল হোটেল থেকে সোমবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় বিল্লালকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১০ এর সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার অ্যাডিশনাল পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী।
বিল্লাল এই মামলার চার নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে ওই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করার অভিযোগ রয়েছে।
একই রাতে গুলশান এলাকা থেকে সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (ডিবি, উত্তর) সদস্যরা। তিনি এজাহারভূক্ত পাঁচ নম্বর আসামি। দ্য রিপোর্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।
ডিবি উত্তর বিভাগের একটি দল সন্ধ্যা ৭টায় গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহমতকে গ্রেফতার করে। এজাহারে জানানো হয়, গ্রেফতার রহমত ঘটনার সময় আসামিদের গানম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে গ্রেফতারে পর রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের বরাত দিয়ে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেছেন, ‘ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও গ্রেফতারকৃত বিল্লালই করেছে। তারা ভিকটিমদের মদসহ নেশা জাতীয় দ্রব্য জোর করে সেবন করিয়েছিল। আসামিরা ভিকটিমদের ইয়াবাও সেবন করাতে চেয়েছিল। যাতে করে এর ভিডিও করে আসামিরা ভিকটিমদের ব্লাকমেইল করতে পারে। কিন্তু ভিকটিমরা ইয়াবা সেবন করেন নি। ধর্ষণের আগে আসামিদের এক সহযোগী ভিকটিমদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল জোর করে খাওয়ায়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘ভিকটিম তরুণীরা মামলা করলে সে তার মোবাইল ফোন থেকে ধর্ষণের ভিডিওটি মুছে ফেলে। মামলার পর আসামিরা সবাই এক সঙ্গে পালায়। কিন্তু তারা সকলে এক সঙ্গে থাকেনি, বরং আলাদা আলাদা রিসোর্ট ও হোটেলে অবস্থান নেয়। সাফাত ও সাদমান গ্রেফতার হওয়ার পর বিল্লাল সোমবার সকালে ঢাকায় আসে তার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে আইনের পরামর্শ করতে। এ জন্য সে নবাবপুরের ইব্রাহিম হোটেলের ৫ নম্বর রুমে অবস্থান নেয়। এই রুমেই সে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শও করে। পরে আমরা তাকে গ্রেফতার করি।’
রাজধানীর বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ১১ ঘণ্টা অস্ত্রের মুখে রেখে ও জোর করে মদপান করিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিন তরুণসহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা (মামলা নম্বর-৮) করেছেন ওই দুই তরুণী।
মামলার ৫ আসামি হলেন— সাফাত আহমেদ (২৬), নাঈম আশরাফ (৩০), সাদমান সাকিফ (২৪), গাড়ি চালক বিল্লাল (২৬) ও সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদ।
ভিকটিমরা জানিয়েছেন, তাদের বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর রোডের ৪৯ নম্বর দ্য রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অভিযুক্তরা অস্ত্রের মুখে আটকে রেখে মারধর করে ও গালিগালাজ করে। আগে থেকেই ওই হোটেলে দুটি কক্ষ ভাড়া করে রেখেছিলেন অভিযুক্ত ধর্ষকরা। পরে বাদী ও তার অপর এক বান্ধবীকে দুটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোর করে মদপান করিয়ে ধর্ষণ করা হয়। রাত থেকে সকালের মধ্যে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে সাফাত। বাদীর অপর বান্ধবীকেও রাত থেকে সকালের মধ্যে একাধিকবার ধর্ষণ করে নাঈম। সাদমানের সঙ্গে তার দুই বছর ধরে পরিচয়। আনুমানিক দুই সপ্তাহ আগে সাদমানের মাধ্যমেই সাফাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সাফাতের জন্মদিনের কথা বলে গত ২৮ মার্চ ভিকটিমদের দাওয়াত দিয়ে বাসা থেকে গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় সাফাতের গাড়িচালক ও দেহরক্ষী। ঘটনার আগে ভিকটিমদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তাদের ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন সাফাতের গাড়িচালক। এরই মধ্যে সাফাত আহমেদ ও তার সহযোগী সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা রিমান্ডে আছেন। এখন শুধু মামলার দ্বিতীয় আসামি নাঈম আশরাফকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।