• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নামে বাণিজ্যের অভিযোগ

সিসি নিউজ: দিনাজপুরে বার বার যাচাই-বাছাইয়ের নামে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরীতে ব্যাপক দুর্নীতি ও দূর্নীতি এবং ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরীতে বানিজ্য চলছে। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে যাচাই-বাচাই এ হয়রানী শিকার সাধারন মুক্তিযোদ্ধারা। তারা সাত দফা দাবী সুষ্ঠ বাবায়নের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার রক্ষায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরী বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।
দিনাজপুর প্রেসক্লাব ভবনে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,যাচাই-বাচাইয়ের নামে চলছে কোটি কোটি টাকার বানিজ্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিল ৭৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধ। আর এখন দেশে ২ লাখ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহন করছে। এতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা হারিয়ে যাচ্ছে। দিনাজপুরে ১১০০ মুক্তিযোদ্ধা রনাঙ্গনে অংশ গ্রহন করলেও ১৪০০ মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত হয়েছে। আরো ৫০০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধ অনলাইনে আবেদন করেছেন। কোন দিনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না অথচ এমন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই বাছাই কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৭জন ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রর্শন করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এরা কোন দিনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। যা ডাক্তাররাই ভুয়া বলে সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন। সরকারের ছত্রছায়ায় একটি মহল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরী করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। দিনাজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চলছে অমুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে।
সাধারন মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজেনে মুক্তিযোদ্ধাদের মতবিনিময় সভা ও সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধকালিন ভারতের শিববাড়ি মুক্তিবাহিনী ক্যাম্পের ডেপুটি কমান্ডার অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির জুয়েল। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৎকালিন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনাজপুরের সাধারন সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ সাইফুদ্দীন আখতার। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার দাবীদার হয়েও এই সরকারের সময় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরী দুঃখজনক।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাবী করা হয়েছে,এক শ্রেণির ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নেতারা যাচাই-বাচাইয়ের নামে বানিজ্য করছে। কোন কোন সময় ওই নেতারা ৩০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকার উৎকোচ নিয়ে মুকিযোদ্ধাকে সত্যায়ন করছে। এধরনের উদ্দ্যোগকে কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তাদের সর্ম্পকে খোঁজখবর নিয়ে তারপরেই তালিকা প্রস্তুতের দাবী করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়,আনোয়ারুল কাদির জুয়েল,শিববাড়ি ক্যাম্পের সদস্য বগুড়া সারিয়কান্দির ওসমানগনি এবং মোঃ শাহজাহান আলী একই সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল এবং মুক্তিবার্তা(লাল) অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে আজো ওই ২জন ভাতা পাচ্ছে। অথচ একই ক্যাম্পের অন্য সদস্য মোঃ সেকেন্দার আলী,মোঃ আফতাব হোসেন, মোঃ সায়েম উদ্দীন,মোঃ আব্দুল বাসেদ,ইলিয়াস উদ্দীন আহম্মেদ ও মোঃ ফজলুল হকের নাম গেজেটে থাকা সত্যেও তারা এখন ভাতা পাচ্ছেন না। ওই ৬ জন আমাদের সাথে ৭নং সাব সেক্টরে অংশ নিয়ে প্রশিক্ষন ও যুদ্ধ করেছে, আমরা এই সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবী করছি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের তালিকাভুক্ত করে ভাতা প্রদান করা হউক।
সংবাদ সম্মেলনে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোস্তাকিম আলী,মোঃ সেকেন্দার আলী, মোঃ সায়েম উদ্দীন, মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আহম্মেদর স্ত্রী রানী সরকার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ