।। খুরশিদ জামান কাকন ।।প্রকৃতির দৃষ্টি নন্দন উপকরন পাখি। পাখি যেমন একদিকে মিটায় মনের খোরাক, অন্যদিকে প্রকৃতিতে সৃষ্টি করে চঞ্চলতা। পাখি ছাড়া প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন অসম্পন্ন তেমনি পাখি ছাড়া প্রকৃতিতে রক্ষা হয় না ভারসাম্য।
.
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুর ইউনিয়নের খালিসা বেলপুকুর গ্রামের উদ্যমী তরুণ আলমগীরের পাখির প্রতি ভালো লাগা ও ভালোবাসা থেকে পাখির জন্য কিছু করার প্রচেষ্টা স্বরূপ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া।
তিনি উপলদ্ধি করলেন দিনে দিনে বন উজাড় করনের ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির অপূরুপ দৃষ্টিনন্দন উপকরন পাখি। তিনি আরো দেখলেন বর্তমানে পাখিদের আবাসস্থলের নিরাপত্তা ও পাখির সুরক্ষা নেই বললেই চলে। পাখির নিরাপদ আবাস স্থলের অভাবে কমে যেতে শুরু করেছে পাখির বংশবিস্তার।
.
পাখি প্রকৃতিতে আনে সজীবতা ও জাগিয়ে তুলে প্রকৃতির চঞ্চলতা। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত চারদিক এখন শূন্য ও নিষ্প্রাণ হওয়ার পথে। এছাড়াও একদল পাখি শিকারকারী আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে দিব্যি অবাধে পাখি শিকার করে বেরুচ্ছে পুরো দেশব্যাপী।
.
আর তাই উদ্যমী তরুন আলমগীর হয়ে উঠলেন সোচ্চার। পাখি বাচাতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে নিলেন দৃঢ় প্রত্যয়। পাখির প্রতি ভালোলাগা থেকে তিনি ২০১২ সাল থেকে কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে পাখির জন্য দিয়ে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবা। তিনি সম্পূর্ণ নিজ খরচে বন্ধুদের সাথে নিয়ে পাখির নিরাপদ আবাস স্থল নিশ্চিত করনে গাছে গাছে বিশেষ পক্রিয়ায় বানানো কলস লাগানো শুরু করেন। আলমগীরের লাগানো সেসব কলসে পাখিরা নিশ্চিতে ও নির্ভয়ে বাসা বেধে বংশবিস্তার করতে পারে। এছাড়াও আলমগীর তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, মাদ্রাসা-মন্দিরে পাখি রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে জনসচেতনতা মূলক বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
.
সেই থেকে এখন অবধি আলমগীরের একটানা পথ চলা। এখন সৈয়দপুরের আনাচেকানাচে চলতে ফিরতে দেখা যায় আলমগীরের নেতৃত্বাধীন পাখি রক্ষার প্রচেষ্টা স্বরুপ গাছে গাছে লাগানো সেসব কলস। সেই থেকে আলমগীর পুরো সৈয়দপুর জুডে পাখি প্রেমিক হিসেবে পরিচিত।আলমগীরের কার্যকলাপে মুগ্ধ হয়ে পাখি রক্ষার্থে এলাকার অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। যার ফলে আলমগীরের পাখি রক্ষায় ব্যতিক্রমী এ কার্যকলাপের পরিসর দিনেদিনে বৃদ্ধি পেয়েছে।তিনি পাখি ও পাখির আবসস্থল সংরক্ষণে “পাখি সংরক্ষণ সম্মাননা-২০১৬” পুরস্কারে ইতোমধ্যে ভূষিত হয়েছেন।
.
তরুণ উদ্যেক্তা আলমগীর হোসেন জানায়, জানিনা পাখি রক্ষায় কতোটুকু করতে পেরেছি বা আর কতোটাইবা করতে পারবো। কিন্তু সবসময় নিজের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সে সময়টাতে নিজেকে খুব সফল ও স্বার্থক মনে হয়, যখন দেখি আমাদের লাগানো কলসে পাখিরা বাসা বেধেছে এবং বংশ বিস্তার করছে। পাখির অভয়ারাণ্য তৈরীর এ উদ্যোক্তা আরো জানায়, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। এসব পাখি ফি
রিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। পাখি না থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাছাড়া কৃষিতে পাখিদের ভূমিকা অপরিসীম। পাখি ক্ষতিকর পোকা মাকড় নিধনে ও চাষাবাদে বড় একটা ভূমিকা রাখছে। আর তাই প্রকৃতি বাঁচাতে আমাদের পাখি নিধন বন্ধ করতে হবে,পাখির নিরাপদ আবাস স্থল গড়ে তুলতে হবে।
.
আলমগীরের মা জাহানারা বেগম জানায়, ছোটবেলা থেকেই আলমগীর খুব পাখি প্রেমিক। আলমগীর তার উপার্জিত টাকার অধিকাংশই পাখির বাসা নিশ্চিতে ব্যয় করে থাকে। এছাড়াও আলমগীর খেয়ে না খেয়ে সারাদিন গাছে গাছে কলস লাগিয়ে বেড়ায়। তবুও আলমগীরকে আমরা কখনো এসব কার্যক্রম করতে বাধা দেই না। কারন জানি ছেলে যা কিছু করছে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভালোর জন্য করছে।
.
পাখি প্রানীর খাদ্যচক্রের অবিচ্ছেদ অংশ। পোকামাকড় খেয়ে পাখি আমাদের ফসল রক্ষা করে থাকে, ক্ষতিকর পতঙ্গ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সবমিলিয়ে পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। সব পাখিই আমাদের কোন না কোন ভাবে উপকার করে থাকে। আর তাই আলমগীরের মতো আমাদেরও পাখির প্রতি সদয় ও পাখি রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া উচিত। তবেই পাখি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচবে।