সিসি নিউজ: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে বিচারিক আদালতে এই মামলা চলতে কোনো বাধা নেই। রবিবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও বদরুদ্দোজা বাদল। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে ২২ মে খালেদার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রবিবার রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
এ মামলার বৈধতা নিয়ে খালেদা জিয়ার করা রিট ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত বছরের ২৫ মে এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ জুন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন খালেদা জিয়া।
উল্লেখ্য, সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম।
চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়।
পরে এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া। তার ওই আবেদনে হাইকোর্ট ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেন।
দীর্ঘ সাত বছর দুদকের আবেদনে সেই রুলের শুনানি করেন হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে মামলাটি সচল হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার দুই নম্বর বিশেষ জজ হোসনে আরা বেগমের আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যায়ে রয়েছে।