সিসি ডেস্ক: ধনকুবের প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলার সুপারিশ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। এ ছাড়া মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করার জন্যও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ সুপারিশ করা হয়।
এদিন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দুদককে ওই সুপারিশ করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, প্রিন্স মুসার গাড়িটিতে শুল্ক ফাঁকি থেকে লব্ধ অর্থ বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হওয়ায় শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করার জন্যও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর অনুমতি চেয়েছে। এই দুটো চিঠি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কারনেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধার মাধ্যমে আনীত একটি বিলাসবহুল ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়িতে শুল্ক ফাঁকি সংক্রান্ত দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। পরবর্তীতে শুল্ক ফাঁকি ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ ও শুনানির প্রয়োজনে তাকে শুল্ক গোয়েন্দা সদর দফতরে তলব করা হলে গত ৭ মে প্রিন্স মুসা হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।
শুনানিকালে প্রিন্স মুসা বিন শমসের তার বার্ষিক টার্নওভারের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে ‘সুইস ব্যাংকে রক্ষিত ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৯৬ হাজার কোটি টাকা) জব্দ আছে’ মর্মে উল্লেখ করেন। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের স্বপক্ষে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিংবা অন্য কোনো প্রামাণিক দলিলাদি তিনি দাখিল করেননি।
প্রিন্স মুসার ব্যবহৃত বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়িটি কারনেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় ২০১০ সালে শুল্কমুক্তভাবে আনীত। যা কোনোভাবেই প্রযোজ্য শুল্ক-করাদি পরিশোধ ব্যতিরেকে বাংলাদেশে ব্যবহার বা রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ নেই।
অথচ ২০১৫ সালে ভোলা বিআরটিএ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্রাদি দাখিলের মাধ্যমে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। যা দুর্নীতি দমন কমিশনের শিডিউলভুক্ত অপরাধ।
প্রসঙ্গত, গত মার্চের ১৭ তারিখে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি তদন্ত দল কর্তৃক প্রিন্স মুসার ব্যবহৃত একটি ‘রেঞ্জ রোভার ভোগ’ মডেলের গাড়ি জব্দ করা হয়। গাড়িটি ভোলা বিআরটিএ থেকে শুল্ক পরিশোধের ভুয়া বিল অব এন্ট্রি দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন করান।
প্রিন্স মুসা এতে ১৭ লাখ টাকা শুল্ক দিয়েছেন মর্মে দাবি করেন। কিন্তু চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা যায়, এই বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়নি। ফলে সরকারের প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ফাঁকির সঙ্গে জড়িত ছিলেন প্রিন্স মুসা। ভোলা বিআরটিএর কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি এই দুর্নীতি করেছেন বলে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।