• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

‘অটো’ ভোট আর নয়

।। তুষার আবদুল্লাহ  ।।

ঈদ আসছে। গ্রাম এবং শহরের ঘরে ঘরে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঈদের আনন্দ এবং কেনাকাটায় সকলের মুখের গল্প হবার কথা। এমনটাই প্রতিবার ঈদের আগে দেখেছি। কিন্তু এবারের ঈদ দেখে মনে হচ্ছে, সকলের প্রস্তুতি নিছক আনুষ্ঠানিকতার।

রাজধানীর ঈদের বাজার ঘুরে দেখেছি। ফুটপাথ থেকে শুরু করে বিত্তশালীর মার্কেট, দেখার অভিজ্ঞতা নিয়েই পা বাড়িয়েছিলাম মফস্বলের পথে। চিত্র একই। কেনাকাটা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে বাড়তি তেমন উচ্ছ্বাস নেই। উৎসবে প্রয়োজনের কেনাকাটাটুকু সেরে নিচ্ছেন সবাই।

সামর্থ্যের কমবেশিতো থাকবেই। সবার চাহিদা হয়তো মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাবে মধ্যবিত্ত। নিম্নবিত্ত -বিত্তহীনরা কোনভাবে দিনটি পার করে দেবেন অন্য সাধারণ একটি দিনের মতোই। তবে এই উচ্ছ্বাসের শূন্যতার কথা বলছিলাম, সেই শূন্যতাকে পূরণ করে দিচ্ছে ভোটের প্রতীক্ষা।

ভোট আসছে। ঈদের আগমনী বার্তাকে ছাপিয়ে গেছে ভোটের পূর্বাভাস। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা কেবল শহরে বসেই ভোটের অঙ্ক নিয়ে কথা বলছেন তা নয়, শহরে-গ্রামে তারা ‘হোম-ওয়ার্ক’এ ব্যস্ত।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। দলও মোটামুটি ভাবে তালিকা তৈরি করে ফেলেছে। আপাতত তালিকা দীর্ঘ হলেও, সামনের দিকে তালিকা ছোট করে নিয়ে আসা হবে। ভোটাররাও এখন ফসলের মাঠ, চায়ের দোকান, অফিস-আদালতে ভোটের অঙ্ক কষে যাচ্ছেন।

দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ভোটের প্রশ্নে নিকট অতীতেও যতোটা কঠিন অবস্থানে ছিল, এখন উভয়েই সেই অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসেছে। সরকারী দল আগামী নির্বাচনে যে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপিকে চাচ্ছে, এবিষয়ে তারা তাদের অবস্থান পরিস্কার করেছে।

বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য কেবল আন্তরিকই নয়, এক প্রকার উৎসাহ এবং প্রণোদনাও দিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির অবস্থান থেকে সরে নির্বাচনকালীন সরকার পর্যন্ত এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব যেনো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী না থাকেন, সেই দাবিটিও মৃদু হয়ে উঠছে।

নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পথচিত্র তৈরি করেছে। প্রয়োজনে তারা আগাম নির্বাচন আয়োজনের জন্য তৈরি বলেও জানিয়েছেন। সরকারী দলের সাধারণ সম্পাদকের অতি সম্প্রতি দেয়া বক্তব্য থেকে আভাস মিলে নির্বাচন ২০১৮তেই হচ্ছে।

এরই মধ্যে ভারত, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের কুটনীতিকরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছেন। সবার কথা নির্বাচন যেন ২০১৪’র ৫ জানুয়ারির মতো না হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও তার দলের সংসদ সদস্য এবং নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন-আগামী নির্বাচন ৫ জানুয়ারির মতো হবে না। কঠিন হবে। বিতর্কিত ও ব্যর্থদের মনোনয়ন দেয়া হবে না।

বাজারে নানা রকম জরীপের কথা শোনা যায়। সেখান থেকেও আঁচ পাওয়া যায় সরকারী দল বিগত নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে ফিরে তাকাবে না, এবং এবার যাচাই বাছাই করেই প্রার্থী দেবে। বিএনপিও তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা তৈরি করতে বসে গেছে।

এই খবরগুলো ভোটারদের জানা। তাই তারাও নিজেদের মতো করে নির্বাচন নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। ভোটারদের উচ্ছ্বাসের জায়গাটি হচ্ছে-তারা পূর্বাভাস পাচ্ছে আসছে নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগটি তারা পাবেন। যেতে পারবেন ভোটকেন্দ্রে। নিজের প্রতিনিধিকে বেছে নেবার সুযোগ পাবেন।

গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ ভোটারদের কথা হচ্ছে -গ্রাম ও মফস্বল শহরে চলাচল করা ‘অটো’ বাহনটি যেমন বিরক্তিকর, তেমনি ‘অটো’ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা জনপ্রতিনিধিদের আচরণও তেমন। তাই তারা আগামী নির্বাচনে কোন ‘অটো’ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি চান না।

চান তাদের বর্জন করে ভোটের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীকে সংসদে পাঠাতে। তাদের সেই ইচ্ছে পূরন হবার আভাস পেয়েই শুরু হয়ে গেছে তাদের ভোট আনন্দ।

লেখক : বার্তা প্রধান, সময় টিভি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ