নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলা ছাত্রদলের ইফতার পার্টিতে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন কর্মী আহত হন।
শুক্রবার নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এই ঘটনা ঘটে। হাতাহাতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ পারভেজ প্রিন্স।
নীলফামারী জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, জেলা ছাত্রদলের ইফতার মাহফিলের ব্যানারে বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের ছবি দেওয়ায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাসুজ্জামান জামানের অনুসারীরা জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্র্মীদের ওপড় চড়াও হয়। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হন।
জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুহৃদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ইফতার মাহফিলকে পন্ড করার পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান বহিরাগত ও টোকাইদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে আসেন।
এসময় মঞ্চের ব্যানারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমান, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি তারেক রহমান এবং বেগম জিয়ার ভাগ্নে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সম্বলতি ছবি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।
এসময় তিনি বলেন যে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ১১ বছর থেকে পলাতক, পাটিতে তার কোন স্থান নেই তাঁর ছবি ব্যানারে কে দিয়েছে। এই বলে তিনি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ পারভেজ প্রিন্স ও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে।
এক পর্যায়ের জামানের অনুসারীরা আমাদের ধাক্কাধাক্কি করলে আমাদের রক্ষায় জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসে। তাদের ওপড়েও চড়াও হয়।
এসময় তাদের সাথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতাহাতি শুরু হয়। ওই ইফতার পার্টিতে উপস্থিতরত জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন। হাতাহাতির ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সাত জন কর্মী আহত হন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ পারভেজ প্রিন্স বলেন,‘শাসুজ্জামারন জামান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একনায়কতন্ত্র কায়েমের লক্ষে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের মধ্যে কোন্দল তৈরী করে আসছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় তিনি কিছু বহিরাগত ও অছাত্রকে ছাত্রদল কর্মী সাজিয়ে শুক্রবার জেলা ছাত্রদলের ইফতার মাহফিলে হামলা চালিয়ে কেন্দ্র ছাত্রদলের কাছে নীলফামারী জেলা ছাত্রদলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করছেন।’
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান বলেন, ‘আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তারা সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করছে তারা। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে সেখানে ইফতারের প্যাকেট বিতরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হট্টগোল শুরু হয় এক পর্যায়ের তাদের মধ্যেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’