সিসি ডেস্ক: দেশের বড় সবগুলো নদীতে পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা আরো ৪-৫ অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে বাংলাদেশের আকাশে মওসুমী বায়ু বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ থেকে মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের বর্তমান ধারার খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। এ ছাড়া দেশের বাইরে ভারতের পর্বতাঞ্চলে মওসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বর্ষণ হচ্ছে। সেখানকার পানিও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে পলি পড়ে ভরাট হওয়া নদীর দু’কূল ছাপিয়ে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আজ সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ফলে তাপমাত্রাও হ্রাস পাবে সারা দেশেই। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে তাপমাত্রা ১ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগেও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলো পাহাড়িয়া অঞ্চলে ভূমিধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যে সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর বাইরে নীলফামারী জেলার ডিমলায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানিও বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে। কুশিয়ার নদী ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অমলশীদে বিপদ সীমার ৮৩ সেন্টিমিটার এবং একটু ভেতরে শেওলা পয়েন্টে কুশিয়ারা বিপদ সীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাটে সুরমা ৫৯ সেন্টিমিটার, শেরপুর-সিলেট সীমান্তে কুশিয়ারা ২৪ সেন্টিমিটার, ডালিয়ায় তিস্তা তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা, সুরমা ও কুশিয়ারা ছাড়া আপাতত: অন্য কোনো নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মার মতো বড় নদীতে পানি বাড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, আরো দু’দিন ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে পানি বাড়তে থাকবে। ঠিক একদিন পর গঙ্গা-পদ্মা নদীতে ভারতীয় পানি প্রবেশ করতে থাকবে। ফলে আগামী দিনগুলোতে পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানিও বাড়বে।
সুরমা ও কুশিয়ারা ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ দুই নদীতে আজ রোববার পর্যন্ত তেমন পানি বাড়েনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুসারে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর এ দুই নদীতেও পানি বাড়বে।
এ দুই নদীর মিলিত স্রোত মেঘনা নাম ধারণ করে চাঁদপুরে সাথে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মনিটর করে এমন ৯০টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫টি স্টেশনে আজ পানি বেড়েছে। পানি কমেছে ৩২টি স্টেশনে।
গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টিপাতের রেকর্ড বেশ উপরের দিকে। চিলমারীতে ১০৯ মিলিমিটার, রংপুরে ৯৭ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামে ৬১ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লোরেরগড়ে বৃষ্টি হয়েছে ৭২ মিলিমিটার।