• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে চাপা ক্ষোভ

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বঞ্চিতরা এ পদোন্নতিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে সবার পদোন্নতি নিশ্চিতের দাবী জানিয়েছেন। সেই সাথে টাকার বিনিময়ে বোর্ড চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ পদোন্নতির ফাইলে সই করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। শুধু তাই নয়, পদোন্নতি প্রাপ্তদের প্রায় সবাই স্বাধীনতা বিরোধী রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার মত গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে শুধুমাত্র ৩ জন প্রগতিশীল থাকলেও তারা নিজেদের আখের গোছাতে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে মিশে গেছেন। তাই সারাজীবন স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনীতি করেও বোর্ডের ৬২ জন বঞ্চিত কর্মচারীকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য পদোন্নতি পেতে এখন সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। মূলতঃ বোর্ড চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ছল-চাতুরির কারনেই এহেন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বোর্ডের কার্যক্রমে স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ কোন ভ্রুক্ষেপ করছেন না।
জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর’র মোট ৮৪ জন কর্মচারীর একযোগে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হবার কথা। নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে খসড়া তালিকা প্রস্তুত কিংবা গোপনীয় প্রতিবেদন প্রদান করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সব নিয়ম-নীতিকে পাশ কাটিয়ে হঠাৎ করে ৮৪ জনের মধ্যে মাত্র ২২ জনের পদোন্নতির ফাইল প্রস্তুত করা হয়। কিভাবে সে ফাইল প্রস্তুত হলো তা কেউ বলতে পারেন না। মূলতঃ বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আহমেদ হোসেন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ ফাইল প্রস্তুত করেছেন। তা না হলে যাদের পদোন্নতির ফাইল তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে সদর উপজেলা কর্ণাই গ্রামে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচনে কেন্দ্রে হামলা করার আসামী পর্যন্ত রয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িতরাও এ তালিকায় ঠাই পেয়েছে। যাদের নামের তালিকা করে তদন্ত করলেই সবকিছু প্রমাণিত হবে। দেশে যখন সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা নির্মাণে জাতির জনক কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একের পর এক যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি নিশ্চিত করে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন, ঠিক তখন যুদ্ধাপরাধী রাজনীতির সাথে যুক্তদের পদোন্নতি দিয়ে তাদের পূর্ণবাসনের কাজ করছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহমদ হোসেন।
পাশাপাশি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী এ ব্যাপারে একটি ডিও লেটার দিলেও কোন কাজ হয়নি। একইভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমও বিষয়টিতে স্বাধীনতার পক্ষের কর্মচারীদের সুবিধা প্রদানের কথা বলেও কোন কাজ হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠেছে-কিসের শক্তিতে বোর্ড চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এহেন কর্মকান্ড করছেন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
এদিকে পদোন্নতি বঞ্চিতদের দাবী-অবিলম্বে সবার পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বঞ্চিতদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বিষ্ফোরিত হলে বোর্ডে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে, তার জন্য চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদেরই দায়ী থাকতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ