কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলসাগর লেকটি সরকারী ভাবে বন্দোবস্ত নিয়েও সেখানে যেতে পারছেন না প্রকৃত মৎস্যজীবিরা। উল্টো সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও তার পেটোয়া বাহিনীর হাতে মারপিটসহ জীবন নাশের হুমকীতে দিন কাটছে লেকের তীরবর্তী প্রকৃত মৎসজীবিদের। লেকটি বন্দোবস্ত নেওয়ায় অনেকে মৎস্যজীবি বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ অবস্থায় ফুলসাগর লেকটি দখল বুঝিয়ে পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৭ জুন জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ফুলবাড়ি উপজেলার ফুলসাগর লেকটি ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ৩ বছরের জন্য ইজারা পায় ফুলবাড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড। ইজারা পাওয়ার পর নিয়ম মাফিক সমুদয় টাকা পরিশোধ করে চালান কপি গ্রহন করে। পরে প্রথম দফা মাছ ছাড়লেও দ্বিতীয় দফায় গত ২৪ জুন মাছ ছাড়তে গেলে ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ নিজেই তার দলবলসহ দরিদ্র মৎস্যজীবিদের উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে মারপিট করে মাছের পোনা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ৫ জন মৎস্যজীবি আহত হয়।
এরপর থেকে জলমহাল ছেড়ে দিতে প্রকৃত মৎস্যজীবিদের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এমন কি বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে জীবননাশের হুমকী অব্যাহত রাখায় অনেক মৎস্যজীবি বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমনকি ফুলবাড়ি বাজারে লেক ইজারা নেয়া মৎস্যজীবিদের মাছ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন। এতে করে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী জলমহাল ইজারা নিয়ে প্রকৃত মৎস্য জীবিরা পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।
ফুলবাড়ি মৎসজীবি সমবায় সমিতির সদস্য শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র বিশ্বাস ও কানু চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ফুলসাগর লেকটি ইজারা পাওয়ার পর অতিকষ্টে টাকা ধার দেনা করে সরকারী কোষাগারে জমা করি। কিন্তু সরকারী বৈধ কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর দ্বিতীয় দফা মাছ ছাড়তে গেলে চেয়ারম্যানের হাতে মার খেতে হয়েছে। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমরা সংখ্যা লঘু হওয়ায় ভারত পাঠিয়ে দেয়ার হুমকী দেয়।
মৎসজীবি সমিতির সদস্য অনুকুল চন্দ্র বিশ্বাস, শ্রী হরিশ চন্দ্র বিশ্বাস, অনজিত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আমরা সারা বছর ফুলবাড়ি বাজারে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। অথচ এ ঘটনার পর চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমাদেরকে মাছ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় আমরা মাছ বিক্রি করতে না পারায় বউ বাচ্চা নিয়ে কষ্টে দিন পার করছি।
ফুলবাড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি শ্রী ধরনী কান্ত বিশ্বাস জানান, ফুলবাড়ি দিশারী মৎস্যজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ কোন ভাবেই মৎস্যজীবি নন। তার পরেও তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তার সমিতির নামে অমৎস্যজীবিদের নিয়ে সমিতি রেজিস্ট্রেশন করে ফুলবাড়ি উপজেলার ছাইতনতলা বিল ও প্রেম সাগর পুকুর ইজারা নিয়েছেন। যা বাংলাদেশ সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়ম বর্হিভুত। অথচ সে কিংবা তাদের সমিতির কোন মৎস্যজীবি কার্ড নেই। সরকারের জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯ এর আলোকে কোন মৎস্যজীবি সমিতি দুইয়ের বেশি জলমহাল ইজারা নিতে পারে না। সে অনুযায়ী জেলা জলমহাল কমিটির সিদ্ধান্তে জেলা প্রশাসক আমাদেরকে এই বিলটি ইজারা দেয়। আমাদের সমিতির ২৪ জন সদস্যের সকলেরি মুল পেশা প্রাকৃতিক উৎস হতে মাছ শিকার ও জীবিকা নির্বাহ করা।
এব্যাপারে ফুলবাড়ী দিশারী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ জানান, জেলা জলমহাল কমিটির সিদ্ধান্ত সঠিক নয় তাই আমরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করেছি। বিভাগীয় কমিশনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে।
অপর দিকে ফুলবাড়ী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি শ্রী ধরনী কান্ত বিশ্বাস জানান, আমাদের সমিতির নামে জলমহালের ইজারা বহাল রাখতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের ভুমি আপিল বোর্ডে আপিল করেছি। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মহোদয়কে ভুমি আপিল বোর্ড চিঠি দিয়েছেন। যার শুনানী আগামী ১০ আগষ্ট ভুমি আপিল বোর্ডে অনুষ্ঠিত হবে।