• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বিলুপ্তির পথে বাঁশের তৈরী ডালি

।। ফরিদুল ইসলাম ।। ডালি! গৃহস্থলি কাজের নিত্য প্রয়োজনীয় উপকরনের মধ্যে একটি। বাঁশের তৈরী এই ডালি ছাড়া গ্রামাঞ্চলে গৃহস্থলীর কাজ একেবারেই অচল। বাসা-বাড়ীর নানা কাজে ব্যাবহার হয়ে থাকে এই ডালি। আর বাঁশ দিয়ে এই ডালি তৈরী করে প্রায় ৪০/৪৫ বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার। জীবন ও জীবিকার যুদ্ধে পরিবারের প্রায় সকল সদস্যই বা্শঁ দিয়ে ডালি তৈরীর কাজ করেই চলেছেন অবিরাম। গ্রামাঞ্চলের সেই নিভৃত পল্লীর একটি বাড়ীতে ৭ জুলাই শুক্রবার সকালে সরজমিনে গিয়ে কথা হয় একটি পরিবারের ডালি তৈরী কারিগরদের সাথে। আমার বিয়ের প্রায় ৪০/৪৫ বছর ধরেই ডালি, কুলা , খুচি, খাচাসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব জিনিষ এই হাত দিয়েই তেরী করছি। আমার বিয়ের আগেই বাবার কাছে কাজ শিখেছি। বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে এসেও দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছি। এখন আমার দুই ছেলে বিয়ে দিয়েছি নাতি-নাতিনি মিলে প্রায় ৮/১০ জন পরিবারের সদস্য। সবাই এখন এই কাজেই করছি,কথাগুলি বলছিলো নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ঝাড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মশিয়ার রহমানের স্ত্রী মোমেনা বেগম (৬৫)। কথা হয় তার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), শফিকুল ইসলাম (৩২) ও তাদের স্ত্রী অফিয়া বেগম এবং সামিনা বেগমের সাথে। তারা জানালেন তাদের জীবনের বাঁশের ডালি বানানোর দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার কথা। রফিকুল জানালো এ শিল্পের কল্পকাহীনি, ইতিহাস ঐতিহ্য’র কথা। এক সময় বাশের দাম কম ছিলো তখন এসব বানিয়ে অল্প দামে বিক্রয় করেও অনেক লাভ হত। কিন্তু এখন আর হয় না। বাঁশের দাম অনেক বেশী ডালি-খাঁচার দামও কম। একটি বাঁশ ক্রয করতে ২’শ থেকে আড়াই”শ টাকায়। খাচা কিংবা ডালি হয় মাত্র ৮ থেকে ১০ টা। আর বিক্রয় হয় মাত্র ৪’শ থেকে ৫’শ টাকায়। আর এতে সময় লাগে একজনের জন্য প্রায় এক থেকে দুই দিন। তার স্ত্রী সামিনা বলেন, সংসারে ছেলে-মেয়ে শশুড়-শাশুড়ী, দেবরসহ ১০জন। ফলে সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। তাছাড়াও এ ব্যাবসায় পুঁজি কম থাকায় ডালি বেশি করে বানাতে পারি না। ফলে এ পেশা টিকিয়ে রাখাই এখন দায় হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিয়েছে অনেকেই। এ কারনে প্রায় বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এ পেশা। তার কথার সুরে সুর মিলিয়ে দেবর শফিকুল জানালেন, পুঁজি বেশি থাকলে হয়ত অফ ছিজিনে বাঁশ কিনে ডালি তৈরী করে রাখা যেত। আর দাম বাড়ার সময় বিক্রয় করা যেত, তাহলে লাভ বেশি পেতাম। সংসারের আয় উন্নতি করা যেত। পুঁজি না থাকায় মালে যা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টের। চলে টানাটানি করে। এসব কথার ফাঁকে দেখা গেল তাদের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও এ কাজে বসে কাজ করছে। তাদের আঁকুতি বংশ পরমপরায় বাবা-দাদার আমলের এ পেশা টিকিয়ে রাখতেই এ কাজ ধরে রেখেছে তারা। তাদের আবেদন, যদি সরকারী কিংবা বে-সরকারী সংস্থা সমুহ থেকে তাদেরকে সহজ শর্তে সল্প সুদে ঋন দেওয়া হত তাহলে এ পেশাটি ধরে রাখার পাশাপাশি নিজেদের জীবন মান আরো উন্নত করতে পারতো বলেও এলাকার সূধীজনরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রবিউল ইসলাম লিথন জানান, আমি জানি ওখানে বেশ কয়েকটি পরিবার আছে যারা বাঁশের তৈরী ডালি-কুলা ও খাঁচার ব্যাবসা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদেরকে একটু আর্থিক সহায়তা করা হলে তাদের জীবন ও জীবিকায় আরো বেশী সহায়ক হত। কিন্তু ইউপি’তে তেমন কোন ব্যাবস্থা না থাকায় বর্তমানে তাদেরকে সহায়তা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সুযোগ হলে তাদের পাশে দাঁড়াবো আমি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ