লালমনিরহাটঃ বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ৪ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ১৭ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বিজিবির নায়েক শেখ আব্দুল ওয়াহেদ ।
শনিবার(৮ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার(৭ জুলাই) রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন বিজিবি’র দহগ্রাম ক্যাম্পের নায়েক শেখ আব্দুল ওয়াহেদ। মামলা দায়ের সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃতেদর ৪জনকে পুলিশে সোপর্দ করে বিজিবি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামের কাতিপাড়া এলাকার আয়নাল হকের ছেলে সাইবালী মিয়া(৩৪), আব্দুর রশিদের ছেলে আবু তালেব(৩৫), মৃত দুরজন আলীর ছেলে সোনা মিয়া(৩৯)ও মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে রফিকুল ইসলাম(৪৩)।
মামলার বিবরনে জানা গেছে, গত ২৬ জুন দিনগত রাতে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দহগ্রাম ক্যাম্পে সংযুক্ত থাকা রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়াসহ ৪ সদস্যের একটি টহল দল গোপন সংবাদ পেয়ে পাটগ্রামের দহগ্রাম সীমান্তের তিস্তা নদীর আবুলের চরে গিয়ে অবস্থান নেন।
একদল চোরাকারবারীকে ভারতীয় গরু নিয়ে আসতে দেখতে প্রথমে আটকের চেষ্টা করেন টহল দলের অপর বিজিবির ল্যান্স নায়েক টুটুল মিয়া তিস্তা নদীতে নামেন। এ সময় চোরাকারবারীরা তার উপর হামলা চালালে সহকর্মীকে বাঁচাতে তিস্তায় নামেন ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া। এসময় চোরাকারবারীরা বিজিবির ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়াকে পানিতে ডুবিয়ে মেরে নদীতে ভেসে দিয়ে ছটকে পড়েন।
দুদিন পর ২৮ জুন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভাটিতে ভারতীয় তিস্তাপস্তি নামকস্থান থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তার মরদেহ উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। ওই দিন পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।
এ ঘটনায় বিজিবি ২ জুলাই থেকে দহগ্রামের কয়েকজনকে আটক করে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
এরপর শুক্রবার(৭ জুলাই) রাতে বিজিবির নায়েক শেখ আব্দুল ওয়াহেদ বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত ৪জনসহ ১৭ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন জানান, ওই ঘটনায় দহগ্রামের চৌকিদার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে তহিজুল ইসলাম ও দহগ্রাম ক্যাম্পের সোর্স বলে পরিচিত মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে তৈজুল হক নুরুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে বিজিবি। কিন্তু আটকের ৬ দিন পরও তাদেরকে থানায় বা তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হয় নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাটগ্রাম থানার ওসি তদন্ত ফিরোজ কবির জানান, বিজিবি ৪জন আসামীকে সোপর্দ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।গুরুত্ব সহকারে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লালমনিরহাট-১৫ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল গোলাম মোরশেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোন কথা বলতে রাজি হননি।