গোলাম মুর্ত্তজা: মাত্র চার ঘণ্টায় গণিত বিভাগের ফল প্রকাশ করে রেকর্ড করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতর। ইতোপূর্বে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতরের বিরুদ্ধে ফল প্রকাশে বিলম্বের অভিযোগ থাকলেও উপাচার্যের হস্তক্ষেপে মাত্র চার ঘণ্টায় তারা গণিত বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। যদিও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতরের দাবি, বিভাগগুলো সঠিক সময়ে ফলাফল জমা দেয় না বলেই ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়।
জানা গেছে, গত ১৬ মার্চ গণিত বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হয়। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল হাতে না পাওয়ায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছিলেন না বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। দ্রুত ফল প্রকাশে বিভাগের শিক্ষকদের জানিয়েও ফল না পাওয়ায় গতকাল রোববার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। আর এ ফলাফল প্রকাশে উপাচার্য হস্তক্ষেপ করায় ওই দিনই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতরে ফলাফল জমা দেয় বিভাগটি। শুধু তাই নয়; ওই দিন বিকেলেই বিভাগটির ফল প্রকাশ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতর। এ ব্যাপারে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যেই আমাদের স্নাতক শেষ হওয়ায় কথা ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালেও শেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল পাচ্ছিলাম না। বিষয়টি নিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের একাধিকবার অবগত করেও ফলাফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই উপাচার্য মহোদয়কে বিষয়টি জানাই। জানতে চাইলে গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কমলেশ চন্দ্র রায় ফল প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কয়েকদিন ধরে ফলাফল প্রকাশে কাজ চলছিল। বিভাগের শিক্ষক স্বল্পতার কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছিল। ফলাফল প্রকাশে বিলম্বে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতর দায়ী নয় দাবি করে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. ফিরোজুল ইসলাম বলেন,পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতরে ফলাফল জমা দেয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ বিভাগ এ নিয়ম মানে না। তবে গণিত বিভাগের এ ফলাফল ওইদিনই তারা পেয়েছেন এবং উপাচার্য মহোদয়ের হস্তক্ষেপে তা স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।
বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ সিসি নিউজকে বলেন, সঠিক সময়ে ফলাফল প্রকাশ করা হলেই কেবলমাত্র সেশনজট নিরসন করা সম্ভব। আর সেশনজট নিরসন করতেই দ্রুত ফল প্রকাশ করতে বলা হয়। শিক্ষার্থীদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দেবেন বলেও জানান।