সিসি নিউজ: বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুর্ভোগ কমেনি তিস্তা পাড়ের মানুষের। দু’দিন ধরে পানিবন্দি মানুষ ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
জেলার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২৫টি চর ও গ্রামের ১৫ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পাশ্ববর্তী লালমনিরহাট হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার নদী বেষ্টিত চর ও গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে তিস্তার পানি প্রবাহ কমায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় বন্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিস্তা পাড়ের বসবাসরতদের দুর্ভোগ এখনো কমেনি। বন্যা দুর্গত মানুষ এখনো পায়নি ত্রাণ সহায়তা। দু’দিন ধরে পানিবন্দি মানুষগুলো অভুক্ত থেকে ত্রাণ সহায়তার আশায় ক্ষণ গুণছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে বন্যা দুর্গতদের জন্য সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসনের ত্রাণভাণ্ডার হতে জিআর এর ৫৫ মেট্রিকটন চাল ও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পাড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে । ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় বন্যার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের জন্য চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।