• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকা শিশু অদ্রিজার মাঝে ভয়

সিসি ডেস্ক: যখন বরিশালের আগৈলঝাড়ার সাবেক ও বরগুনার ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং দুই ঘণ্টা হাজতবাসের ঘটনা নিয়ে দেশে হৈচৈ পড়েছে, তখন স্বাধীনতা দিবসের কার্ডের ছবি আঁকা শিশু অদ্রিজা কর এর মাঝে ভয় কাজ করছে। আর অদ্রিজার পরিবার পড়েছে বিব্রতকর অবস্থায়। অদ্রিজা কর আগৈলঝাড়া সদরের শ্রীমতি মাতৃ মঙ্গল বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। সে বন্দরের শান্তিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সত্ত্বাধিকারী পরিমল কর এর মেয়ে।

অদ্রিজা কর জানায়, সে ক্লাস ওয়ান থেকে ছবি আঁকে। এ জন্য বিভিন্ন সময় অনেক পুরস্কারও পেয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকতে তার ভালো লাগে। এ জন্য স্বাধীনতা দিবসের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় সে বঙ্গবন্ধুর ছবি এঁকেছে। ছবি আঁকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করায় পুরস্কার পেয়েছি। আমাকে যে স্যার পুরস্কার দিয়েছেন তাকে পুলিশ নিয়ে গেছে। এ কারণে আমার এখন ভয় ভয় লাগে। তবে কিসের জন্য ভয় সে বিষয়টি ১১ বছর বয়সী অদ্রিজা ভালোভাবে বুঝাতে পারেনি।

অদ্রিজা আরো জানায়, পুরস্কার দেয়া স্যারকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর বাবা ফেইসবুক থেকে আমার আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবিটি সরিয়ে ফেলেছে।অদ্রিজার মা বলেন, এ ঘটনার পর আমরাও বিব্রতকর অবস্থায় আছি। অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কোন সমস্যা আছে কিনা জানতে আত্মীয়স্বজনও ফোন দিচ্ছে। এর সাথে এলাকাবাসী থেকে শুরু করে সংবাদ কর্মী সকলেই আসছেন।

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিলো ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’। উপজেলা স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া ছবি স্বাধীনতার দিবসের কার্ডের প্রথম পেইজে এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ছবি কার্ডের পিছনের পেইজে দিয়ে কার্ড ছাপানো হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম হওয়ার শিশুর ছবি প্রথমে পেইজে এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকারী অদ্রিজা কর এর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি কার্ডের পিছনে ছাপা হয়।

এতেই বিপত্তি দেখা দেয়। ওই ছবি দিয়ে ছাপানো কার্ডে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করা হয়েছে এবং এতে জাতীর মানহানি হয়েছে অভিযোগে গত ৭ জুন বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেন আগৈলঝাার তৎকালীন ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে। আদালতের সমন পেয়ে ১৯ জুলাই স্বেচ্ছায় বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন এই ইউএনও।

জামিন শুনানির সময় বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজু ছাড়াও সমিতির সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপিসহ আওয়ামীমনা অর্ধশতাধিক আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। এক পর্যায়ে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ইউএনও তারিক সালমনের ডানহাতে একটি হাতকড়া চেপে ধরে দুই পাশে-পেছনে পাহারা দিয়ে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যায়। ২ ঘণ্টা পর দুপুর দেড়টার দিকে বিচারক ফের তাকে জামিনের আদেশ দিলে ১০ হাজার টাকা বেলবন্ডে আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি পান তিনি। এ ঘটনা দেশ-বিদেশে তোলপাড় হয়। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন।

মানবকণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ