শরীয়তপুর : জেলায় ‘শরীয়তপুর নার্সিংহোম’ নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় ওই ক্লিনিকে ভাঙচুর চালিয়েছে রোগীর স্বজনরা। বুধবার (২ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে ডাক্তাররা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, রোগী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (স্টক করে) মারা গেছেন। এখানে ডাক্তারের কোন ভুল চিকিৎসা ছিলনা।
স্থানীয়সূত্র ও নিহতের পরিবার জানিয়েছে, শরীয়তপুর পৌর এলাকার তুলাসার বেপারী পাড়া গ্রামের আবু তাহের বেপারীর অন্তঃস্বত্তা কন্যা রুমা আকতারকে বুধবার(২ আগস্ট) দুপুরে শহরে শরীয়তপুর নাসিংহোম নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি করা হয়। প্রসূতি রোগীকে সিজার করার জন্য অজ্ঞান করার ইনজেকশন দেয়া হয়বেলা ১টায় । এরপর রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। বিকেল ৩টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে তার মৃত্যু হয়। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার অভিযোগে নিহতের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে শরীয়তপুর নাসিংহোম ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারসহ প্রয়োজনী যন্ত্রপাতি ও ৩/৪টি কক্ষ ভাঙচুর করে। উত্তেজিত জনতা কর্তব্যরত ডাক্তারকে শাস্তি দেয়ার জন্য খোঁজ করছে। এ সময় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
নিহতের বোন রেবা আকতার বলেন, ‘সন্তান প্রসবের জন্য আমার বোন রুমা আকতারকে শরীয়তপুর নাসিংহোম ক্লিনিকে ভর্তি করার পর অজ্ঞান করতে ইনজেকশন দেয়া হয়।। এর কিছুক্ষণ পর ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য আমার বোনের মৃত্যু হয়। আমরা এর বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে ক্লিনিকটির কর্তব্যরত ডাক্তার মো. দাউদ বলেন, ‘প্রসূতিকে সিজার করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার শরীয়তপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুস সোবহান রোগীর প্রেসার পরীক্ষা করে। এক পর্যায় রোগী আকস্মিক ভাবে স্টক করে মারা যায়। এ ঘটনার জন্য ডাক্তার দায়ী নয়। অন্যায়ভাবে আমাদের ক্লিনিক ভাঙচুর করা হয়েছে।