সিসি নিউজ: ভিটামিন এ খাওয়ান, শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমান”-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ শনিবার। ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য অপরিহার্য ও নিরাপদ। সুস্থ জাতি গঠনের লক্ষ্যে দেশের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ৬-১১ মাস বয়সী সব শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সীদের একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।
কুচক্রী মহলের নেতিবাচক প্রচারণায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি গতকাল শুক্রবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, শিশুদের ভরা পেটে কেন্দ্রে আনতে হবে এবং জোর করে বা কান্নারত অবস্থায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো ঠিক হবে না। অসুস্থ শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে না। রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পেতে এবং শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সব অভিভাবককে তাদের ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
আর এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দিনাজপুরের খানসামা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নুর ইসলাম নিজ দায়িত্বে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শিশুদেরকে নিজের মোটর সাইকেলে বহন করে খানসামা মা ও শিশু হাসপাতালে এনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান। ওই এএসআই’র এমন মহানুভবতা সকলের নজর কেড়েছে।
সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নুর ইসলাম সিসি নিউজকে জানান, যেখানে রিক্সা বা ভ্যান যেতে সময় লাগছে কিংবা যেতে পারছেনা তেমন এলাকা থেকে তিনি প্রায় ৫০টি শিশুকে মটরসাইকেলে নিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে আত্রাই নদীর পাড়ের জেলেপাড়া, পূর্ব বাশুলী গ্রামের নাম উল্লেখ করেন তিনি। তিনি জানান, শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কাজটিতে সহযোগিতা করতে পেরেছি বলে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
উল্লেখ্য যে, দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে চেরাডাঙ্গী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শনিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মসূচি’র উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পুষ্টি সেবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় একটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে কর্মসূচি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেপুটি ডাইরেক্ট পার্ট-২ ডাঃ আহাদ আলী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ আবু নছর নুরুল ইসলাম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মওলা বকস চৌধুরী।
এবার দিনাজপুর জেলায় ৩ লাখ ২৬ হাজার ১শ’ ৪০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩৫২৮৬জন, ১২-৫৯ মাস বয়স বয়সী শিশুর সংখ্যা ২৯০৮৫৪ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা করা হয়েছে স্থায়ী কেন্দ্র ১৮টি, অস্থায়ী কেন্দ্র ২৫৯৪টি, অতিরিক্ত কেন্দ্র (উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়) ১৪১টি। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনকে সার্থক করতে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ কর্মী (এইচএ) ৩৪৯জন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠ কর্মী (এফ ডাব্লিউ এ) ৩৫০ জন, স্বেচ্ছাসেবী (ভলেন্টিয়ার) ৪৮০৭ জন। এদের তদারকি করার জন্য স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১৫ জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৭০ জন, এফপিআই ৯৪ জন, এসএসিএমও (স্বাস্থ্য) ১১০ জন, এসসিএমও (পঃপঃ) ৫৪ জন ও এফডাব্লিউ ৯০ জনকে নিযুক্ত ছিল।