সিসি নিউজ: মৃত্যুর সাথে পাঁচদিন লড়াই করে অত:পর মারা গেলেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়কের (ডিএস) গাড়ি চালক নূরুল আমিন (৫৮)। রোববার (৬ আগষ্ট) সকালে রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। উধর্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ডিএস’র পাজেরো জিপ গাড়িটি চালিয়ে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে গাড়িটিতে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রক বসানো ও সাজ-সজ্জা করে গাড়িটি সৈয়দপুরের ফেরার পথে গত ২ আগষ্ট রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দর্গা হাইওয়ে থানার পাশে জিপটি একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে ওই চালকসহ রেলওয়ে কারখানার আজিজুল হক (৫৫) নামে এক কর্মচারী গুরুতর আহত হন। এদের প্রথমে গোপনে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গাড়ি চালককে রংপুরে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গাড়ি চালকের মৃত্যু সংবাদ সৈয়দপুর রেলওয়ে অঙ্গনে পৌছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কারখানার শ্রমিক- কর্মচারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তাদের কেউ কেউ জানান, ডিএস হচ্ছেন কারখানার অভিবাবক, তিনি কিভাবে সকল বিধি লংঘন করে ঢাকায় পাঠালেন। এমন কাজ না করলে গাড়ি চালক নূরল আমিনের মৃত্যু হত না।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ডিএস যে পাজেরো জিপটি ব্যবহার করেন তা শুধু দাপ্তরিক কাজের জন্য। সন্নিবেশিত এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে এর চলাচল সীমিত। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। ডিএস গাড়িটি কেন ঢাকায় পাঠালেন তার দায় দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (সিএমই) মিজানুর রহমান সাথে কথা বললে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডিএস’র গাড়ি সাজ-সজ্জার ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল এ তথ্য তার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গাড়িটি ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-ই খুদা। গাড়ির চালকের মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্ত বাঁচানো সম্ভব হলো না। আহত অপর শ্রমিক ভাল আছেন বলে জানান তিনি।