সিসি নিউজ : জন্মধাত্রী মাকে যখন এক মুঠো ভাতের জন্য নিজের ছেলের প্রহারে রক্তাক্ত হতে হয়,শুনতে হয় বৌমা কতৃক নানা বঞ্চনা ঠিক সে মুহুর্তে ৭০ কি:মি: পথ পাড়ি দিয়ে নির্যাতিত মাকে উদ্ধার করে সদরে এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মায়ের আজীবন ভরণপোষন এর দায়িত্ব নিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল।সমাজে স্থাপন করলেন অনন্য নজির।
সন্তান ও বউমার নির্যাতনে রক্তাক্ত হওয়া শতবর্ষী বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুন (৯৮) কে যখন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল কোলে করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছিলেন সেই দৃশ্য দেখে এলাকাবাসী নীরব হয়ে তাকিয়ে ছিলেন।
বুধবার সকাল ৭ টায় জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি দেখে হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের মানুষ অবাক হয়েছেন।
এসময় এলাকার অনেক নারী একে অপরকে বলেন, যে কাজ করা দরকার নিজের ছেলের সেটা করলেন বড় স্যার (জেলা প্রশাসক)। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে শতবর্ষী বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুন বউমার কাছে (ছেলের স্ত্রী) খাবার জন্য ভাত চাইলে আকস্মিক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ৬০ বছর বয়সী ছেলে বদরউদ্দিন ও তার স্ত্রী। এক পর্যায়ে তাদের মারধরের শিকার হন শতবর্ষী ওই বৃদ্ধা। এসময় বাম চোখের নিচে গুরুতর জখম হন তিনি।
ঘটনাটি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় ওই বৃদ্ধার জন্য অনেকে কষ্ট প্রকাশ করে ছেলের শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল গভীর রাত পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের বানভাসি মানুষ গুলোর খোঁজখবর নিতে আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে থাকায় তিনি বিষয়টি দেরিতে জানতে পারেন। এরপর গভীর রাতে তিনি ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
অবশেষে সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল, সাংবাদিক তানভীর হাসান তানু ও রবিউল এহসান রিপন হাজির হন ওই বৃদ্ধার বাড়িতে। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতির খবর শুনে সেখানে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ এলাকার অসংখ্য গণ্যমাণ্য ব্যক্তি হাজির হন। পরে সবার উপস্থিতিতে বৃদ্ধা মাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঠাকুরগাঁওয়ের পথে রওয়ানা হন।
এরপর বেলা ১২টায় বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুনকে জেলা প্রশাসক ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আজীবন ভরণপোষনের দায়িত্ব নেন।
ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, রাতে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। সকালে এসে ডিসি স্যার ও দুইজন সাংবাদিক বৃদ্ধ মা কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ে যান।
জরুরি বিভাগের ডাক্তার পার্থ সারথী দাস জানান, বৃদ্ধা মায়ের চোখের ক্ষত খুবই গুরুতর। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার সকল চিকিৎসা ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল থেকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, রাতে যখন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জানতে পারলাম এক বৃদ্ধ মা তার সন্তানের হাতে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তখন বিষয়টি আমাকে খুবই ব্যাথিত করে। তাই সকাল ৭ টায় দুইজন সংবাদকর্মী নিয়ে বৃদ্ধা মায়ের খোজে হরিপুরে যাই। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৃদ্ধা মা কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।