বিশেষ প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামায় ত্রাণমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণে প্রস্তুতি ছিল পাকেরহাটের বড় মাঠে কিন্তু কমিউনিকেশন গ্যাপের কারনে মন্ত্রী নামলেন প্রশাসনহীন খানসামা উপজেলা সদরের পাইলট স্কুল মাঠে।
সূত্রমতে, গতকাল শুক্রবার খানসামা বন্যাদুর্গতদের অবস্থা পরিদর্শনে হেলিকপ্টার যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বীর বিক্রম মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপি আসার বিষয়টি সকলে জানা। সে মোতাবেক প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে হেলিপোর্ট রানওয়ে। কিন্তু খানসামা প্রশাসনের সাথে পাইলটদের যোগাযোগ এবং তথ্যে গড়মিল থাকায় প্রশাসনহীন মাঠেই অবতরণ করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বিএইচ-৭৭২ হেলিকপ্টারটি। অবতরণের পূর্বে হেলিপোর্ট খুঁজতে হেলিকপ্টারটি প্রায় ৫ মিনিট আকাশেই ঘুরতে থাকে। পরে পাইলটের হাতে থাকা ম্যাপের তথ্যানুযায়ী খানসামা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। ঘটনায় খবর পেয়ে খানসামায় থানায় দায়িত্বরত এসআই নুর ইসলাম ত্রাণমন্ত্রীর নিরাপত্তায় ছুটে আসেন।
এদিকে খানসামার মাঠে হাঠাৎ হেলিকপ্টার নামতে দেখে উপজেলা সদরের চারপাশ থেকে নানা বয়সী মানুষজন ছুটে আসেন। মূহুর্তে হাজারো জনতার ভীড়ে আটকে পড়ে প্রায় ২০ মিনিট হেলিকপ্টারের ভিতরে অবস্থান নেন ত্রাণমন্ত্রী।

ফেসবুক থেকে নেয়া
প্রত্যক্ষদর্শী খানসামা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মৌলভী শিক্ষক আব্দুল রশিদ, আলোকঝাড়ি ইউপির ৮নং ওয়ার্ড সদস্য হেলাল উদ্দিন, জনসাধারণ আতিক আহমেদ, আইনুল ইসলাম, নয়ন ইসলাম, সোলজার রহমান সহ অনেকে জানায় হেলিকপ্টারে মন্ত্রী এসেছেন আমরা জানি না। তিনি অনেকক্ষণ হেলিকপ্টারের বসে ছিলেন। পরে আমরা মন্ত্রীকে দেখে চিনেছি।
প্রশাসনহীন মাঠে মন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের বিষয়ে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিন প্রধানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ইউএনও’র সাথে কথা বলতে বলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি। পরে উপজেলা চেয়াম্যান সহিদুজ্জামান শাহের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের সাথে কমিউনিকেশন গ্যাপ ছিল। তাছাড়া পাকেরহাটে সব ধরণের প্রস্তুতি ছিল।
অপরদিকে পার্বতীপুর ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের টিমলিডার কমল চন্দ্র রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হেলিকপ্টারের পাইলটদের সাথে কথা বলে জানলাম, তাদের হাতে থাকা ম্যাপে পাকেরহাট উল্লেখ নাই। ম্যাপে আছে খানসামা পাইলট স্কুল মাঠ এবং খানসামা হেলিপোট। তাই তারা সেখানেই অবতরণ করেছেন।