
শেষ সম্বল নিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে
সিসি ডেস্ক: দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সামনের দিনে আরো উন্নতি হবে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তারা জানিয়েছে, উত্তরে বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে গেছে। দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকায় বন্যার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন।
পূর্বাভাস কেন্দ্রের শনিবার বেলা ১১টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলের (কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ) বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের (মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর) নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি কিছু জায়গায় স্থিতিশীল এবং কিছু জায়গায় অবনতি হবে, যা পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীল হয়ে আসবে।
এর আগে সকাল নয়টার তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি পয়েন্টে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পর্যবেক্ষণাধীন ৯০টি পয়েন্টের মধ্যে ৫১টি পয়েন্টে পানি কমেছে, বেড়েছে ৩৬টি পয়েন্টে।
যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। তবে সেখানে পানি এখনো বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। তবে গতকাল থেকে পানি বাড়েনি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গা, পদ্মা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে যমুনা ও সুরমা নদীর পানি সমতলে কমবে। যমুনা নদীর পানি সমতলে হ্রাস পাওয়া অব্যাহত থাকবে ৭২ ঘণ্টা। আগামীকাল পদ্মা ও কুশিয়ারার পানি সমতলে স্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে। একই সময়ে সুরমা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদীগুলোতে পানি কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি আগামীকাল উন্নতি হবে বলেও জানান তিনি।
সাজ্জাদ হোসেন জানান, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি নুনখাওয়া, চিলমারী, বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে কমতে থাকবে। তিস্তা-ধরলা-দুধকুমোর অববাহিকার পানি কমছে।
পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ ও ভাগ্যকূল পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তা স্থিতিশীল রয়েছে। পদ্মার পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকবে। সামনে অমাবশ্যার কারণে এই প্রবণতা তিন-চার দিন দীর্ঘ হতে পারে।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এই মুহূর্তে ঢাকায় বন্যা হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।