ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকায় রবিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বোমা বিস্ফোরণে এক জঙ্গি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। বোমার স্পিন্টারে আহত হয় তার দুই শিশু সন্তান। তাদেরকে নিয়ে হাসপাতালে যাবার কথা বলে পালিয়ে যায় নিহত জঙ্গির স্ত্রী। প্রায় আড়াই ঘন্টা পর রাত ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকার হবিরবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদেরকে আটক করে পুলিশ। আটক করা হয়েছে বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিনকেও।
বোমায় উড়ে গেছে নিহত জঙ্গির দুই হাতের কব্জি। ক্ষতবিক্ষত হয়েছে তার দেহ।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে আছে ঘরের মেঝেতে। ঘরের ভিতরে আরো বোমা অথবা কেউ জীবিত আছে কি-না, তা পুলিশ নিশ্চিত নয়। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহত জঙ্গি নব্য জেএমবি’র শীর্ষ পর্যায়ের একজন। ওই ঘরে আরো বোমা, বোমা তৈরির ডিভাইস ও বেশ কয়েকটি কালো ব্যাগ রয়েছে। নিহত জঙ্গির বাড়ি কুষ্টিয়া। তবে বোমা বিস্ফোরণের সময় তার রক্তাক্ত দেহের উপর একটি সাদা রঙের মোবাইল পড়ে ছিল। যা থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম জানান, ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কাশর এলাকায় আজিম উদ্দিনের বাড়িতে ২০/২৫টি টিনসেড ঘরে ভাড়াটিয়া রয়েছে। গত দু’দিন আগে নিহত ওই জঙ্গি গার্মেন্টেসে চাকুরির কথা বলে টিনসেড একটি ঘর ভাড়া নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘরের ভিতর বোমা বানানোর সময় আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটলে মারা যায় সে। এ সময় তার স্ত্রী ঘরের বাইরে রান্না করছিল এবং দুই শিশু সন্তান খেলা করছিল। বোমায় স্পিন্টারে দুই সন্তানও আহত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই নারী তার দুই শিশু সন্তানকে হাসপাতালে যাবার কথা বলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে বাড়িটি ঘিরে ফেলে।
স্থানীয়রা জানান, আজিম উদ্দিনের বাড়িতে ২০/২৫টি টিনসেড ঘরে বিভিন্ন গার্মেন্টের কর্মীরা ভাড়া থাকেন। সন্ধ্যার একটু আগে ওই বাড়ির একটি ঘর থেকে বিকট শব্দ হয়। তারা একজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই ওই জঙ্গির স্ত্রী তার ৭ বছর ও ৮ মাসের দুই পুত্র সন্তানকে নিয়ে নিজেই হাসপাতালের কথা বলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।