• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কিশোরগঞ্জে মাকে পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দিয়েছে তিন ছেলে ও পুত্রবধুরা

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি: টাকার জন্য তিন ছেলে এবং পুত্রবধূরা মিলে মাকে বেধড়ক পিটিয়ে একটি পা ভেঙ্গে দিয়েছে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে গুরুত্বর আহত বিধবা বৃদ্ধা মা হাছনা বেগম (৫৮) নির্যাতনে যন্ত্রনায় কাঁতরাচ্ছেন। তার অবস্থা আশাঙ্কাজনক হওয়ায় আজ সোমবার দুপুরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ওই উপজেলার রনচন্ডি ইউনিয়নের দক্ষিন বড়ভিটা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা মা তিন ছেলে ও দুই পুত্রবধুর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগে মামলা দিলেও তা ইউপি চেয়ারম্যান রেকর্ড করতে দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

থানার লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বিধবা বৃদ্ধা হাছনা বেগমের স্বামী জহির উদ্দিন কিশোরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে পিয়ন পদে সরকারী চাকুরী করতেন। চাকুরী করা অবস্থায় ২০১৬ সালের পহেলা জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর সরকারী চাকুরীর এককালিন তার স্ত্রী ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে। সেই টাকা এই মা ৪ ছেলের মধ্যে দুই লাখ ৫০ হাজার করে মোট ১০ লাখ টাকা ভাগ করে দেন। বাকী ৬ লাখ টাকার মধ্যে ৪ লাখ টাকা তার একমাত্র মেয়ে শারমিনের বিয়ের জন্য খরচ করেন। বাকী দুই লাখ টাকা এই মা তার নিজের নামে ব্যাংকে রেখে দেন। এ ছাড়া প্রতি মাসে স্বামীর পেনসনের ৭ হাজার টাকা তুলে তিনি কলেজ পড়ুয়া ছোট ছেলে সহ পৃথকভাবে দিনাতিপাত করে আসছিল। কারন তার বাকী তিন ছেলে মায়ের ভরনপোষনে অনিহা প্রকাশ করে। এ অবস্থায় গত দুই মাস আগে তৃতীয় ছেলে নাজমুল হোসেন ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক কেনার নাম করে তার মার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাওলাদ নেয়। কিন্তু নাজমুল টাকা নেওয়ার পর ইজিবাইক না কিনে সেই টাকা বড় ও মেঝো ভাই সহ তিনজন ৫০ হাজার করে ভাগ করে নেন। ইজিবাইক না কেনায় মা দেড় লাখ টাকা ফেরত চাইতে গেলে বচসার সৃস্টি হয়। এতে গতকাল রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিন ছেলে হাসানুর রহমান, শাহিন আলম, নাজমুল হোসেন, পুত্রবধু পাখি বেগম ও মৌসুমি বেগম বৃদ্ধা মাকে চুলের মুঠি ধরে নির্যাতন করে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে বাম পা ভেঙ্গে দেয়। এসময় ছোট ছেলে বদিউজ্জামান মাকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে।
আজ সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জ উপজেলার হাসপাতালে বৃদ্ধা মা হাছনা বেগম নির্যাতনের যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন আমার বড় তিন ছেলে ও দুই পুত্রবধু টাকার কারনে আমার উপর নির্যাতন করে লোহার রড দিয়ে আমার বাম পা ভেঙ্গে দিয়েছে এবং তারা আমার ছোট ছেলেকে নির্মমভাবে মেরেছে। তাই থানায় লিখিতভাবে মামলা দিয়েছি। কিন্তু রনচন্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান থানায় মামলাটি রেকর্ড করতে দিচ্ছেনা। চেয়ারম্যান মিমাংসা করার কথা বলছে। আমি এই মিমাংসা চাই না। বিচার চাই ।
এদিকে সাংবাদিকরা ওই বৃদ্ধার বড় ছেলে হাসানুর, মেঝো ছেলে শাহিন আলম ও তৃতীয় ছেলে নাজমুলের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাদের বাড়িতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানায় তারা ওদের বউ বাচ্ছা নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় গ্রামের সাধারন মানুষজন চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তারাও ওই তিন ছেলের বিচার দাবি করেছে। তারা এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের ভুমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছে।

এ ব্যাপারে রনচন্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন বৃদ্ধার ওই তিন ছেলে চরম অন্যায় করেছে। তারপরেও তারা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে। তাই ঘটনাটি সমাধানে মামলাটি না করার জন্য বৃদ্ধা মাকে অনুরোধ করেছি। ঘটনাটি মিমাংসা করে বৃদ্ধা মায়ের দেড় লাখ টাকা ফেরত দেয়ার চেষ্টা করবো বলে চেয়ারম্যান জানান।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুজাত শরীফ বলেন নির্যাতনে বৃদ্ধার ডান হাতের কব্জী জখম হয়েছে। এ ছাড়া বাম পায়ের হাটুর উপর ভেঙ্গে গেছে। এখানে পায়ের চিকিৎসা ও প্লাষ্টার করা সম্ভব নয় বলে বৃদ্ধাকে সোমবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য বলেছি।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশিদ বলেন নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা মা হাছনা বেগম বাদী হয়ে তিন ছেলে ও দুই পুত্রবধু সহ ৫ জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মিমাংসার জন্য সময় চেয়েছেন। মিমাংসা না হলে মামলাটি রেকর্ড করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ