বিশেষ প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাম্বলীদের দুয়ারে উঁকি দিয়েছে তাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। কদিন বাদেই মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে মর্তলোকে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে নীলফামারী জেলার ছয়টি উপজেলার ৮৩৬টি মন্ডপে চলছে পূজার সর্বশেষ প্রস্তুতি।
জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন দফতর সুত্র জানায়, ৮৩৬টির মধ্যে ডিমলায় ৭৭টি, ডোমারে ৯৩টি, জলঢাকায় ১৬৪টি, কিশোরগঞ্জে ১৪৪টি, সদরে ২৭৮টি এবং সৈয়দপুরে ৮০টি পূজামন্ডপ রয়েছে।
মৃৎ শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা নিপুণ আঁচড়ে গড়তে। প্রতিমাতে পড়ছে ভাস্করের রং তুলির আঁচড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাজ। মৃৎশিল্পীরা জানান, পূজা শুরুর দিন পর্যন্ত রং এর কাজ করতে হবে। প্রতিমা তৈরির কাজ নির্বিঘ্নে করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
সৈয়দপুর শহরে এবারে মোট ১৮টি পূজা মন্ডব স্থাপন করা হয়েছে। হিন্দু কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ২৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়োজিত দুর্গাপূজা উৎসবে যাতে জনসাধারণদের ব্যাঘাত ঘটানো না হয় এ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
হিন্দু কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমিত কুমার আগরওয়াল জানান, সৈয়দপুর শহরে এবারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৯০তম দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান। বাবা সুশিল কুমার আগরওয়াল এর সময় থেকে এ শহরের দুর্গা পূজার ব্যাপকতা প্রকাশ পায়। শুরু থেকে এ শহরের আয়োজনকৃত পূজা উৎসবে কোন প্রকার গন্ডগোলের আভাস পাওয়া যায়নি। চলতি বছরেও যেন বিগত বছরের মতো শান্তি শৃঙ্খলার সাথে উৎসবের ভাগিদার সকলেই হবে নিশ্চিত।
ধর্ম হোক নিজ নিজ, আনন্দ উল্লাস হোক সবার। হিন্দু ছাড়াও সকল গোষ্ঠির মানুষ জাতে করে এ উৎসবে সামিল হতে পারে এজন্য সকল ব্যবস্থাই করা হয়েছে। তবে উৎসব করতে গিয়ে কেউ যেন মদ্যপান করে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করতে না পারে এজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি রাজু কুমার পোদ্দার।
হিন্দু কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট বাবু তুষার কান্তি রায় বলেন, সৈয়দপুর শহরের মানুষ হলো নিঃস্বন্দেহে শান্তি প্রিয়। জাতিগত ভেদাভেদ থাকলেও আন্তরিকতার কমতি নেই কারো। ৯০ বছর থেকে সৈয়দপুরে বিশাল আয়োজনে দুর্গা পূজার উৎসব পালিত হয়ে আসছে।
সুষ্ঠভাবে দুর্গা পূজার উৎসব করতে পারেন সেজন্য জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো নাশকতা এড়াতে প্রতিটি পূজামন্ডপে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে বলে জানিয়েছেন নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
অপরদিকে মন্দিরগুলোতে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. খালেদ রাহীম। তিনি বলেন, সরকার থেকে প্রতিটি পূজামন্ডপে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়। এবারেও সহায়তা দেয়া হবে।
২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসব। এদিনে ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি ও আরতীতে মুখরিত হবে শহর, পাড়া-মহল্লা ও গ্রাম। এবছর মা দুর্গা নৌকায় চড়ে পৃথিবীতে আসবেন। আবার কৈলাশে ফিরে যাবেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে।