নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে এক ভূয়া চিকিৎসককে এক বছরের কারাদন্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমনার রায় প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
শুক্রবার বিকালের দিকে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান এই রায় প্রদান করেন।
দন্ডাদেশপ্রাপ্ত হারুন অর রশীদ (২৭) নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ গ্রামের মো. ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে।
বিকালে দন্ডাদেশ প্রাপ্ত ওই ভূয়া চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান র্যাব-১৩ নীলফামারী ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কাশেম।
র্যাব কমান্ডার আবুল কাশেম জানান, অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার দুপুরের দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাচানের নেতৃত্বে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ও র্যাব-১৩ সদস্যরা গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ বাজারের আর.এক্স ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড পেইন ম্যানেজমেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়।
এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদনবিহীন আর.এক্স ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড পেইন ম্যানেজমেন্ট হাসপাতাল স্থাপন এবং সনদপত্র ছাড়াই চিকিৎসক সেজে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করায় প্রতিষ্ঠানের মালিক হারুন অর রশীদকে আটক করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন এবং নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে কোন প্রমাণাধি দেখাতে না পারায় সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে হারুণকে এক বছরের কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমনা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদন্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমান আদালত।
এলাকাবাসী জানায়, কোন ধরণের বৈধতা ছাড়াই ভবানীগঞ্জ হাটে একটি ভাড়া বাড়িতে আর.এক্স নামে হাসপাতাল খুলে অপচিকিৎসা প্রদান করে আসছিল চিকিৎসক পরিচয়দানকারী হারুন অর রশিদ। তিন বছর ধরে তার এমন অপচিকিৎসায় এলাকার অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভুয়া চিকিৎসকের অবৈধ ওই হাসাপালের খবরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসানের নেতৃত্বে র্যাবের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে ল্যাব, হাসপাতাল এবং চিকিৎসক হিসেবে হারুন অর রশিদের কোনো বৈধতার প্রমান পাওয়া যায়নি।
হারুন অর রশীদ ফিজিশীয়ানের সনদধারী। চিকিৎসক হিসেবে তার কোন সনদ কিংবা কোন প্রামানাদি নেই। এমনকি সে যে হাসপাতালটি স্থাপন করেছে তার কোন অনুমোধন নেই। সে ভূয়া চিকিৎসক সেজে এবং বিভিন্ন ডিগ্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে ওই হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা উপাদান পরীক্ষা নিরিক্ষার ল্যাবরেটরির রিপোর্ট দিতেন। এছাড়াও রোগীদের জীবন বিপন্ন হয় এমন ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লিখতেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক আবু হাসান বলেন, ‘চিকিৎসক, ক্লিনিক এবং প্যাথোলজির বৈধতা না থাকায় ভ্রাম্যমান আদালতে ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫২ ধারায় হারুন অর রশিদকে এক বছরের কারাদন্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।’