ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ছাতকে জাউয়া বাজার উপানুষ্ঠানিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান প্রশিক্ষক জুনায়েদ আহমদ আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। এখানে ৭ম শ্রেণীতে উঠে তিনি স্কুল জীবনের ইতি টানেন। পরে জাউয়া বাজার টাইটেল মাদরাসায় ভর্তি হলেও সেখানে লেখাপড়া বেশি দূর এগোয়নি। এসময় তিনি কখনও মুয়াজ্জিন আবার কখনও ইমাম হিসেবে যৌবনকাল অতিক্রম করেন। অবশেষে ২০০০সালে শিক্ষার জন্য নিজ এলাকা ছেড়ে স্ব-পরিবারে সিলেটে চলে যান। সেখানে পড়া-লেখার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন বিনামূল্যে পবিত্র ক্বোরআন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ‘আল-ক্বোরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ এর প্রকাশনায় ২০১১সালে তার নিজ হাতে লেখা ক্বোরআন শিক্ষার বই ‘ক্বোরআন শিক্ষার সহজ পদ্ধতি’ প্রকাশিত হয়। পরে জুনায়েদ সিলেটের সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে ২০১০সালে ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কসপ ও রেফ্রিজারেশনের উপর ৬মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে সনদ গ্রহণ করেন। এসময় কম্পিউটার শেখার প্রতি তার আগ্রহ দেখা দিলে একটি কম্পিউটার ক্রয় করে ২০১৩সালে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ নেয়ার পর তিনি কাজের সন্ধানে চলে যান ওমানে। সেখানে ৬মাসের বেশি অবস্থান করা হয়নি তার। এরপর দেশে ফিরে আবারও লেখা-পড়ায় মনযোগি হন। ২০১৫সালে বিশ্বনাথ উপজেলার উদয়পুর গ্রামের তার এক সহপাঠি নূর আলীর কাছ থেকে জানতে পারেন যে, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির অধিনে বেকার যুবক-যুবতিদের ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এখান থেকে জুনায়েদ আহমদ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জাউয়া বাজার একটি প্রশিক্ষণ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ সেন্টার চালু করে। সিলেট জেলা আনসার ভিডিপির কম্পিউটার প্রশিক্ষক বিপ্লব চন্দ্র সাহার মাধ্যমে জুনায়েদ আহমদ একজন নিবেদিত সৈনিক। তার জন্ম ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের মুলতানপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ ও মাতা জেবুন্নেছা চৌধুরীর পুত্র।
তার প্রতিষ্ঠানে এখন শতাধিক ছাত্রছাত্রী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যে সে একজন সফল কম্পিউটার কারিগর হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত।