আজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর): বদরগঞ্জের গরুর খামারিরা গো-খাদ্য সংকটের কারনে পড়েছেন চরম বিপাকে। বিগত বন্যায় জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারনে এ সংকট আরও চরম আকার ধারন করেছে। বন্যায় এ অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষতি যার প্রভাব পড়েছে ডেইরি শিল্পে।
গরুর খাদ্যের মুল উৎস খড়। বন্যায় কৃষকদের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারনে খড় সংকট দেখা দেয়। যার প্রভাব পড়ে বাজারে। যেখানে আগে প্রতি পোন(৮০টি)খড়ের দাম ছিল ১শত ৫০ টাকা হতে ২শত টাকা, সেখানে বর্তমানে প্রতি পোন খড়ের দাম ৭শত হতে ৮শত টাকা। এছাড়াও ধানের কুড়া, চোপড়, ভুষি, খৈলের দাম আকাশ ছোঁয়া। এমতবস্থায় বাড়িতে গরু পালনকারি কৃষক ও গরুর খামারিরা তাদের গরু কম মুল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
কথা হয় গরু বিক্রি করতে আসা উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মামুন মিয়া(৪৫)সাথে তিনি জানান; অনেকের দেখে অনেকটা শখ করে তিনিটি গরু পালন করছিলাম,কিন্তু গো-খাদ্যের এতটাই অভাব ও দাম চড়া যে অনেকটা বাধ্য হয়ে হাটে নিয়ে যাচ্ছি।
কথা হয় রামনাথপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামের গরু খামারি তোজাম্মেল হক জানান; গরুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারনে গরুর খামার নিয়ে আমি খুব চিন্তায় আছি। যে অনুপাতে গো-খাদ্যের দাম সে অনুযায়ি গরু বিক্রিতো করতে পারবো না। অনেকটা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে কষ্ট করে হলেও খামার ব্যবসা ধরে আছি। তিনি আরও জানান বিক্রির জন্য আমার খামারের গরুগুলো গত হাটে তুলেছিলাম। দাম তুলনামূলক কম হওয়াতে ফেরত নিয়ে এসেছি।
কথা হয়, গো-খাদ্য খুচরা ব্যবসায়ী শওকত হোসেনের সাথে। তিনি জানান সকল প্রকার গো-খাদ্যের (ফিডের দাম) দাম বেড়েছে। তিনি আশঙ্খা প্রকাশ করে বলেন ফিডের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে করে আমাদের খুচরা বেচা-বিক্রি অনেক কমে গেছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান বিগত বন্যায় ধানের ক্ষতি হওয়ায় খড়ের দাম মাত্রাতিরিক্ত হিসেবে বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য গো খাদ্যের দামও কিছুটা বেড়েছে। এতে করে খামারিদের জন্য খামার পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।