সিসি ডেস্ক, ৪ নভেম্বর: কলকাতায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এবার এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু। লক্ষ্মী ঘোষ (৩৮) নামে ওই মহিলার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার নারায়ণগড়ের শ্যামনগর এলাকায়।
জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক বছরের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে কলকাতায় আসেন ওই নারী। এরপর এয়ারপোর্টের কাছে লেকটাউনে এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন তিনি। সেখানেই গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ বোধ করেন। এরপর স্থানীয় এক চিকিৎসককে দেখান লক্ষী দেবী। চিকিৎসকের পরামর্শে গত বুধবার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তার রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। বৃহস্পতিবার সেই রক্তের রিপোর্টে ডেঙ্গুর জীবাণুর উল্লেখ করা হয়। দেখা যায় তার রক্তে প্লেললেট কাউন্ট’এর পরিমাণ ১.৩৫ লাখ (যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম)।
পরিবারের লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। একমুহূর্ত দেরী না করে তাকে প্রথমে বাগুইহাটির স্থানীয় একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু সেখান থেকে তাকে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর লক্ষী দেবীকে নিয়ে যাওয়া আরেকটি হাসপাতালে। সেখানেও ওই রোগীকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করলে বৃহস্পতিবার রাতের দিকে কলকাতার বেলেঘাটার ইনফেকশাস ডিজিজ (আইডি) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। শুক্রবার সকালের দিকে হঠাৎ করেই তার শারিরীক অবস্থতার অবনতি হতে থাকে। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে মৃত্যু হয় লক্ষী দেবীর।
যদিও আইডি হাসপাতাল থেকে লক্ষী দেবীকে দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর কথাটি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে মৃত্যুর কারণ হিসাবে ‘মাল্টি অর্গান ফেলিওর’ দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে পশ্চিমবঙ্গে। সরকারি হিসাব মতো রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে যদিও বেসরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে খবর। আক্রান্ত্র রোগীর সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। বহু মানুষ এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলার ঘটনায় বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম সহ বিরোধী দলগুলোও ইতোমধ্যেই প্রতিবাদে নেমেছে।