আলমগীর হোসেন, সিসি নিউজ: ভবিষ্যতে ইউএনও হওয়ার স্বপ্ন সৈয়দপুরের মেধাবী ইয়াসমিন আরা মুক্তার (১৮)। কিন্তু বাধ সেধেছে আর্থিক অস্বচ্ছলতা। তাই বলে মেধাবী মুক্তার ভবিষ্যত লেখাপড়ার পথচলা থেমে যাবে? ঠিক এ উপলব্ধিকে স্মরণ করে তার প্রতি আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ালেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বজলুর রশীদ।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার পৌর মুন্সিপাড়া জোড়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা দর্জি ইউসুফ আলীর মেয়ে ইয়াসমিন আরা মুক্তা। মেধাবী এ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতার দরুন আদৌ ভর্তি হতে পারবে কি না সে চিন্তায় ভুগছিলেন বেশ কয়েকদিন থেকে। পরে মুক্তার নজর পড়ে ইউএনও’র অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে যেখানে ইউএনও কয়েকদিন আগে পোস্ট দিয়েছিলেন যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত আর্থিকভাবে চরম অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা সহযোগিতার জন্য ইউএনও বরাবর যোগাযোগ করতে পারেন। যোগাযোগের জন্য জুড়ে দেওয়া হয় মোবাইল নম্বরও।
এরই সূত্র ধরে মেধাবী ইয়াসমিন আরা মুক্তা যোগাযোগ করেন ইউএনওর সাথে। পরে ইউএনও সত্যতা যাচাই করে ভর্তির জন্য মেধাবী মুক্তার হাতে রবিবার (১২ নভেম্বর) তুলে দেন ১৫ হাজার টাকা। ভবিষ্যতে আরো সহযোগিতা জন্য দেওয়া হয় আশ্বাস। জানা গেছে মেধাবীর শিক্ষার্থীকে খুব শিঘ্রই আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়াবে সৈয়দপুর পৌরসভাও।
মেধাবী মুক্তারা দুই ভাই এক বোন। এতদিন নিজেই টিউশনি করে চালিয়েছেন নিজের পড়ালেখা। মুক্তা তুলশীরাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করে। সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসিতে অর্জন করে ৪.৯২। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই খুরশীদ আলম মানিকও টিউশনি করে ঢাকা মোহাম্মদপুর আলিয়া মাদ্রাসায় ফাজিলে লেখাপড়া করছেন। মেজো ভাই রায়হান রেজা সৈয়দপুর কলেজে এইচএসসির শিক্ষার্থী। মাঝপথে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে রায়হানেরও লেখাপড়া কিছুদিন বন্ধ ছিল। তিনিও টিউশনির মাধ্যমে নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বজলুর রশীদ জানান, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছিল না। সে হিসাবে আমাদের দায়িত্ব বলে উপজেলা প্রশাসন আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে মেয়েটির পাশে দাড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন, শুধু উপজেলা প্রশাসন নয় মেয়েটির ভবিষ্যত লেখাপড়ার জন্য তুলিনুর বেগম নামে এক অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী ভর্তির পর থেকে তার লেখাপড়ার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছে।