অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম: ভাঙ্গছে নদী কাঁদছে মানুষ, মানচিত্র থেকে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে চিলমারী। ব্রহ্মপুত্রের পেটে ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। সেই সাথে ঐতিহ্য ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে’ ভাওয়াইয়া ও পল্লীগীতির স¤্রাট আব্বাস উদ্দিনের গাওয়া এ গানের চিলমারী বন্দর এখন শুধু গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে এ বন্দরের অস্তিত্ব এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। ডানতীর রক্ষা প্রকল্পসহ নতুন করে বন্দর চালুর উদ্দ্যেগ নেয়া হলেও ভাঙ্গন প্রতিরোধে নেই সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ। ফলে ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে শতকোটি টাকার রক্ষা প্রকল্প ও নদী বন্দরের নির্ধারিত স্থান। পানি কমতে শুরু করতেই শুরু হয়েছে ভাঙ্গনের লীলা খেলা। ভাঙ্গন কবলিত মানুষ হয়ে পড়েছে দিশাহারা।
পুরনো সেই চিলমারী বন্দর বাঁচাতে না পারলেও ডানতীর রক্ষা প্রকল্প ও নতুন ভাবে নদী বন্দরটিসহ এবার চিলমারী উপজেলাকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে ‘হামাক বাঁচান হামার চিলমারীকে বাঁচান’। শুধু তাই নয় ভাঙ্গন কবলিত মানুষের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে আকাশ বাতাস। চলতি বন্যার পানি কমতেই শুরু করতেই শুরু ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙ্গন। এসব কারণে দেশের মানচিত্রে আয়তনের দিক থেকে ছোট হয়ে আসছে এই উপজেলাটি। নদী ভাঙ্গন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন রোধে পদক্ষেপ নেয়া হলেও সংশিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের অবহেলা সাথে সাথে এখনো পর্যন্ত সঠিক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিলীন হতে বসেছে চিলমারী উপজেলা সাথে মানুষের জীবন-জীবিকা।
জানা গেছে, গত কয়েকদিনে উপজেলার রমনা, জোড়গাছ, মনতোলা, উত্তরখাউরিয়ার, খেদাইমারী, ফেসকা, নটারকান্দি, মাঝিপাড়া, কড়াইবরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতশত বাড়ীঘরসহ হাজারো একর ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সরেজমিনে উপজেলার রমনা জোড়গাছ, নয়ারহাট, অষ্টমীরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ভাঙ্গনের চিত্র। কথা বলার সময় নেই তাদের তারা ব্যস্ত এখন বাড়িঘর সরানোর কাজে। কিন্তু কোথায় যাবে এটাও তাদের নেই জানা। ভাঙ্গনে বাড়ি-ঘরহারা মানুষজন এপ্রতিনিধিকে জানান তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা।
নয়ারহাট ইউপি চেয়ারম্যার আবু হানিফা জানান- ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন শুধুমাত্র আমাদের জমি ও বসত-ভিটা নিয়েই যায়নি। আমাদের অসংখ্য স্বজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই রাক্ষসী নদী। শুধু তাই নয় যাদের এক সময় গোয়াল ভরা গরু, ডুলি ভরা ধানসহ সুখ আর আনন্দ সব ছিল তারাও এই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে আজ পথের ফকির।
স্থানীয়রা জানায়, ব্রহ্মপুত্র পাড়ের মানুষ ভাঙ্গন থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি সরিয়েও শেষ রক্ষা পাচ্ছে না।
উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম বলেন- আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি চিলমারীকে রক্ষার জন্য এছাড়াও ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাছও চলমান রয়েছে আশা করছি সমস্যা হবে না।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে ভাঙ্গন রোধের সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।