ঢাকা, ২০ নভেম্বর : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চের ভাষণের দিনটিকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে কেন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। ভাষণের মঞ্চটি পুনর্নির্মাণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
একই সঙ্গে ৭ মার্চে তর্জনি উঁচিয়ে স্বাধীনতায় উদ্বুদ্ধকরণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ভাস্কর্য ওই মঞ্চে কেন করা হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদ ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা ও যে মঞ্চে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই মঞ্চে তার ওই আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মাণ করাসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অবন্তী নূরুল।
আদালত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থসচিবসহ বিবাদীদের ৩ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলে আগামী ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন। এই সময়ের মধ্যে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে ১২ ডিসেম্বর অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে ওই ২ সচিবকে বলা হয়েছে।
সাড়ে চার দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ কোটি বাঙালিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো।