নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় নতুন সাব-রেজিষ্টার যোগদানের পর হতেই দলিল লেখকদের সাথে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এর ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ ছিল দলিল সম্পাদনের কাজ। দলিল লেখকগন কোন দলিল না লেখার ফলে কোন দলিল রেজিষ্ট্রি হয় নি বলে অভিযোগে প্রকাশ। তবে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাব-রেজিষ্ট্রি কার্যালয়ে সাব-রেজিষ্টার ও দলিল লেখকগন আর কোন দ্বন্দ্বে জড়াবেন না বলে লিখিত মুচলেকায় মীমাংসা করেন।
ডোমার সাব-রেজিষ্টার কার্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুল মান্নান জানান, চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর ডোমার সাব-রেজিষ্ট্রি কার্যালয়ের সাব-রেজিষ্টার হিসেবে শিরিনা আক্তার যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর সঠিক কাগজপত্র যাচাই করে দলিল সম্পূর্ণ করেন। এতে কয়েকজন দলিল লেখক বাধা সৃষ্টি করায় সাব-রেজিষ্টার ও দলিল লেখকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এতে দলিল লেখকগন দলিল লেখা বন্ধ করে দেন। যে সকল দলিল লেখক নিয়ম মেনে দলিল সম্পাদন করতে যায় তাদেরকে বাধা দেয়া হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ।
অভিযোগে জানা যায়, ডোমার উপজেলার পশ্চিম বোড়াগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সুলতান প্রধান দলিল লেখক ভোলানাথ অধিকারী ও বজ্রগোপালের মাধ্যমে দলিল রেজিষ্টি করার জন্য সাব-রেজিষ্টারের কাছে যাওয়ার সময় দলিল লেখক মোস্তাফিজুর রহমান বিদ্যুৎ ও দুলাল হোসেন সেই দলিল ছিনিয়ে নেয়। এতে ভোলানাথ অধীকারী সাব-রেজিষ্টারের কাছে অভিযোগ করলে সাব-রেজিষ্টার শিরিনা আক্তার দলিল লেখক মোস্তাফিজুর রহমান বিদ্যুৎ ও দুলাল হোসেনের নামে সরকারের রাজস্ব আদায় ও সরকারী অন্যান্য কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে থানায় একটি অভিযোগ করেন। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নাসিমুল একরাম সুমন জানান, কাগজপত্র বিক্রেতারা সঠিক দিচ্ছে না। সি,এস, এস,এ, বি,এস, খারিজ, আগত খতিয়ান, খাজনা চেক হালনাগাদ এবং গ্রহীতাকে রেজিষ্ট্রির সময় উপস্থিত থাকতে হবে, বিদেশে থাকলে দুতাবাসের অনুমতি লাগবে। এগুলো সময়মতো দিতে না পারায় দলিল লেখা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলে আবার দলিল লেখা শুরু করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা সাব-রেজিষ্টার শিরিনা আক্তার বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে দলিল রেজিষ্ট্রি করা হবে। ভবিষ্যতে কোন দলিল লেখক নিয়ম অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে দলিল লেখকগন একটি লিখিত মুচলেকা দিয়েছে।