সিসি নিউজ: ১৬ই ডিসেম্বর। পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির দিন। দীর্ঘ ২৪ বছরের পাকিস্তানি দুঃশাসনের নাগপাশ ছিঁড়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আসে বিজয়। একাত্তরের এইদিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে হানাদার বাহিনী। জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।
দুইশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দ্বিজাতি-তত্ত্বের ভিত্তিতে জন্ম পাকিস্তান রাষ্ট্রের, সেখানেও বাঙালির ওপর নেমে আসে পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ, নির্যাতন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন বাঙালি মননে তৈরি করে স্বাধীকারের চেতনা, পরে তা রূপ নেয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
একাত্তরের ৭ মার্চ জাতিকে মুক্তির দিকনির্দশনা দেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হানাদার বাহিনীর আক্রমণের পর ২৬ মার্চ আসে স্বাধীনতার ঘোষণা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে ১৪ ডিসেম্বর রাজাকার, আল-বদরদের সহযোগিতায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে পাকিস্তানি জান্তা। ১৫ ডিসেম্বর থেকেই মিলতে শুরু করে হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের আভাস।
১৬ ডিসেম্বর, সকালে ঢাকায় প্রবেশ করে মিত্রবাহিনী। দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের ইস্টার্ন কমান্ডের সদরদপ্তরে মিত্রবাহিনীর মেজর জেনারেল জ্যাকবের সঙ্গে আলোচনার পর আত্মসমর্পণের সম্মত হন পাকিস্তানের কমান্ডিং অফিসার নিয়াজি।
বিকেলে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করেন জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। এসময় মিত্রবাহিনীর পক্ষে ছিলেন ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিবাহিনীর উপ-অধিনায়ক আবদুল করিম খোন্দকার।
একে একে আত্মসমর্পণ করে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণের ঘটনা। ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে খচিত হয় এক নতুন মানচিত্র। জন্ম হয় বাংলাদেশের।