• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

অভিনেতা সিরাজ হায়দার আর নেই

বিনোদন ডেস্ক, ১১ জানুয়ারী: বিশিষ্ট অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ হায়দার আর নেই (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টায় রাজধানীর কল্যাণপুরে নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাক করে তিনি ইন্তেকাল করেন।

অভিনয়ে ৫০ বছর পূর্ণ করেছিলেন তিনি ২০১২ সালে। ১৯৬২ সালে নবম শ্রেণীর ছাত্রকালীন টিপু সুলতান নাটকে করিম শাহ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল কিশোর সিরাজ হায়দারের। ২০১৩ সালে সিরাজ হায়দারের গড়া নাট্যদল রঙ্গনা নাট্যগোষ্ঠী তাদের ৩৫ বছর পূর্ণ করে।

সিরাজ হায়দার একাধারে যাত্রা, রেডিও, টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের নিবেদিত অভিনেতা ছিলেন। তার জন্ম বিক্রমপুরের মুন্সীগঞ্জের বিখ্যাত দরগাবাড়িতে। বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীতে। নাম মেজর (অব.) খন্দকার ইসরাফিল হক। দুই মেয়ে আর এক ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন খুবই দুষ্টু। ফলে তাকে মামাবাড়ি শরীয়তপুরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানেই পড়াশোনা করার সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় দিবস ১৪ই আগস্টে প্রথম টিপু সুলতান নাটকে একমাত্র ছাত্র হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পান। ওই নাটকে তা সব শিক্ষক অভিনয় করেন। সেই থেকে শুরু। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় ঢাকায় চলে আসেন। উঠেন চাচাতো বোনের বাসায় গুপীবাগে। তখন পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন ক্লাবে অনুষ্ঠিত নাটকে অভিনয় করতে শুরু করেন।

প্রথম বড় মঞ্চে অভিনয় করি ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে এইচ আকবর পরিচালিত কান্নাভেজা মাটি নাটকে। তার নায়িকা ছিলেন পল্লবী (নীলিমা দাস)। এরপর কাজী হাবিবের নির্দেশনায় কল্যাণ মিত্রের লেখা কুয়াশা কান্না নাটকে অভিনয় করে বেশ পরিচিতি লাভ করেন। ১৯ বছর বয়সে আমি নাট্য নির্দেশক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। নির্দেশনা দেন দায়ী কে নামক নাটকে। এটির রচয়িতাও কল্যাণ মিত্র। বিক্রমপুরের বিকারী বাজার শহরের গ্রিন ওয়েল ফেয়ার সেন্টার ক্লাবে এটি মঞ্চস্থ হয়। ৬৯-এর গণআন্দোলনে তার নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এক সময় স্ত্রী এবং ছয় মাসের শিশু সন্তানকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে চলে যান। আগরতলায় গিয়ে নাটক করতে থাকেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফিরে এসে আবদুল্লাহ আল মামুনের সহকারী হিসেবে ‘জল্লাদের দরবার’ নামক চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এই ছবির প্রধান সহকারী পরিচালক ছিলেন শিবলী সাদিক। সেই সময় যাত্রা সম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাসের সঙ্গে বেশ অনেকগুলো যাত্রা পালায় অভিনয় করেন তিনি। ১৯৬৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে (বর্তমানে বিটিভি) অভিনয় করেন।

প্রায় ৪০০ সিনেমাতে অভিনয় করেছেন তিনি। রেডিওতে খবরও পড়েছেন তিনি। ১৯৭৬ সালে আমি রঙ্গনা নাট্যগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা কওে প্রথম নাটক ‘আলো একটু আলো’ মঞ্চস্থ করেন। তারর লেখা ও নির্দেশনায় এই নাটকটি আলোচিত হয়।

এরপর ‘রঙ্গনা’ তার নির্দেশনায় দর্শকদের উপহার দেয়,‘বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিন’, ‘আদম বেপারী’, ‘বেয়াদবি মাফ করবেন’, ‘শয়তানের ব্লাডপ্রেসার’, ‘পাগলা ঘণ্টা থামাও’সহ প্রায় ২০টি নাটক। সর্বশেষ মঞ্চস্থ হয় ‘হায় দেবদাস’। সিরাজ হায়দারের হাত ধরে অভিনয়ে এসেছেন রাজীব, রোজিনা, দিলদার, সাদেক বাচ্চু, বাবুল আহমেদসহ অনেকেই। বিশিষ্ট পরিচালক নারায়ণ ঘোষ সিতার ‘সুখের সংসার’ ছবিতে তিনি খলনায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। নিজেও দু’টি ছবি পরিচালনা করেছিলন। একটি ‘সুখ’ আরেকটি ‘আদম বেপারী’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ