• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও জীবন থেমে থাকেনি

|| খুরশিদ জামান কাকন  || ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। এ শক্তির জোরেই মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করছে। অসাধ্যকে করছে সাধন। তেমনি একজন রেজাউল করিম। যিনি চোখে না দেখলেও নিভে যেতে দেননি জীবনের আলো। কর্মঠ হয়ে দেখিয়েছেন দৃষ্টান্ত। পেয়েছেন সফলতা, পরিবারের মুখে ফুটিয়েছেন হাসি।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাগডোগরা ডাক্তারপাড়া গ্রামের বাশিন্দা রেজাউল করিম। বয়স ২৫ পেরিয়ে ২৬ ছুঁইছুঁই। মাত্র আট বছর বয়সেই চোখের জ্যোতি হারান। বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে দূর্ঘটনায় আক্রান্ত হলে চিরদিনের জন্য অন্ধত্বকে বরণ করতে হয়।
রেজাউলের বয়স যখন ১৮ তখন তার বাবা মারা যায়। পরিবারের সম্পূর্ণ দায়ভার তার উপরে এসে পড়ে। ঘরে বিয়ের উপযোগী দুই বোন ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে তিনি কি করবেন। কি করে যোগাবেন সবার মুখে অন্ন। এসব ভাবনায় কাতর হয়ে পড়েন রেজাউল।
এরপর তিনি আর থেমে থাকেননি। বারবার বিফল হওয়া সত্ত্বেও পরাজয়কে মেনে নেননি। ঝুকি থাকা সত্ত্বেও নিয়োজিত হন কাজে। যারই দৌলতে দুবেলা খাবার তুলে দিতে থাকেন পরিবারের মুখে।
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতো তিনিও করতে পারেন সবধরনের কাজ। নিজের জমিজমা না থাকায় কামলা খাটেন অন্যের জমিতে। কৃষিকাজের মধ্যে বীজ রোপণ থেকে মাড়াই সবি তিনি নিজ হাতে করেন। দৃষ্টিহীন হলেও এসব কাজে তার কারো সহযোগিতার প্রয়োজন হয় না।
এছাড়াও তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করেন পাশাপাশি সেলোমিশিন চালিয়ে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেন।
নিজের স্বল্প রোজগারের একটুআধটু করে জমিয়ে এবং আত্মীয় স্বজনের কাছে ধারদেনা করে ইতিমধ্যে দুই বোনের বিয়ে দিয়েছেন। সাথে ভালোবাসা নামক মমতায় পরম যত্নে গর্ভধারিণী মাকে আগলে রেখেছেন।
বর্তমানে স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে রেজাউলের ছোট্ট সংসার। এই সংসারের চাহিদা গুলো স্বল্প। স্বপ্নগুলোও হাত বাড়ালেই ধরাছোঁয়ার মধ্যে। তাইতো অন্ধত্ব জীবন নিয়েও রেজাউলের সুখের সীমা নেই।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রেজাউলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “প্রতিবন্ধী মানেই যে সংসারের বোঝা এমনটা কিন্তু না। প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অনেক প্রতিবন্ধীই চাইলে কিন্তু পারবে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে। এজন্যে তিনি সকলের কাছে সহযোগিতা ও উদ্দীপনা কামনা করেছেন।”
তিনি আরো জানান, “যখন কেউ অবহেলার দৃষ্টিতে দেখে অথবা করুণা দেখাতে চায় তখন নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হয়। নিজের বেচে থাকবার ইচ্ছাটা তখন নিষ্প্রাণ হয়ে উঠে। নিজেকে খুব নিষ্কর্মা মনে হয়। তাই তিনি প্রতিবন্ধীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা নয়, সহযোগিতা চান সকলের।”
প্রতিবন্ধী মানেই যদি হয় পরনির্ভরতা। প্রতিবন্ধী মানেই যদি হয় অন্যের করুণা। আর এই ধারনা নিয়েই যদি বেড়ে উঠে সমাজের প্রতিবন্ধী শিশুরা। তাহলে তাদের মধ্যে কি কিছু করার স্পৃহা জাগবে? তারা কি পারবে রেজাউলের মতো প্রতিবন্ধকতা কাটয়ে উঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ