• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

অযত্নে পড়ে আছে কুড়িগ্রামের প্রথম শহীদ মিনার

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম: ৬৪ বছরের অধিক সময়ের পূর্বে নির্মিত কুড়িগ্রামের প্রথম শহীদ মিনারটি অযত্নে-অবহেলায় আজ ক্রমবিলুপ্তির পথে প্রায়। নির্মানের পর হতে দীর্ঘদিন এই শহীদ মিনারটিকে ঘিড়ে জেলার সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হলেও এখন কেউই সেখানে যায় না। ফলে স্মৃতির অতল গহ্বরে বিলীন হতে চলছে প্রথম এ শহীদ মিনার সহ ভাষা আন্দোলনের সৃষ্টি লগ্নের প্রকৃত ইতিহাস এবং ঐতিহ্য।
জেলা শহরের মোল্লা পাড়ায় কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়ক ঘেষে অবস্থিত মজিদা আদর্শ ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের প্রবেশ মূখের বা দিকে তৎকালীন অসম সাহসী প্রগতিশীল কয়েকজন স্কুল ছাত্র কাদামাটি দিয়ে ইট গেথে নির্মাণ করে প্রথম এই শহীদ মিনারটি। ছাত্রদের ভালোবাসার শ্রমে তৈরী শহীদ মিনারটি আডাই যুগ আগেও ছিল শহীদ দিবস পালন সহ অন্যান্য সকল আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।
অথচ এখন তা পড়ে আছে অযত্নে আর অবহেলায়। এর গা ঘেষে গড়ে ওঠা দোকান পাটের যত্রতত্র ছড়ানো ছিটানো পরিত্যাক্ত বজ্য পদার্থে দুষিত হয়ে উঠেছে শহীদ মিনারের পরিবেশ। এমনকি রাতের আধারে প্রতিদিনই মাদক সেবীদের আড্ডা বসে সেখানে। যে কলেজ ক্যাম্পাসে এই ঐতিহ্যবাহী ভাষা স্মারকটি অবস্থান করছে সেই কলেজ শিক্ষার্থীরাও জানে না এর প্রকৃত ইতিহাস।
১৯৫২ সালে কুড়িগ্রামে কোন কলেজ ছিল না। এ কারণে এখানকার বিপ্লবী স্কুল ছাত্ররাই ঢাকার নৃশংস ঘটনার প্রথম প্রতিবাদ জানায়। কুড়িগ্রামের ভাষা সৈনিকদের অন্যতম এ কে এম সামিউল হক নান্টু জানান,’৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত হওয়ার খবর কানে এলে,তিনি সহ ডাঃ নুর,মোস্তফা বিন খন্দকার,ডাঃ আসাদ এবং আরও কয়েকজন স্কুল ছাত্রের নেতৃত্বে পর দিন কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুল ও মাইনর স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শহরে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি মুসলিম লীগ নেতা পনির উদ্দিন আহমেদের বাড়ির সামনে গেলে তার নির্দেশে পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে ১ নম্বর মাঠের স্কুলকে ভেন্যু করে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার ডাক দিলে সেখানেও পুলিশ বাধা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবসের আগে অ্যাডভোকেট আমান উল্লাহ,সাংবাদিক তোফায়েল হোসেন,সামিউল হক নান্টু,আব্দুল আহাদ,আব্দুল হামিদ,অ্যাডভোকেট আসাদ সহ অন্যান্য ভাষা সংগ্রামী ছাত্ররা গড়ে তোলে জেলার প্রথম এ শহীদ মিনার।
কিন্তু ১৯৮৬ সালে শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌর কর্তৃপক্ষ নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করলে ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী প্রথম এ শহীদ মিনারটি তার গুরুত্ব হাারিয়ে ফেলে বলে জানান,কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মন্ডল।
এ দিকে কলেজের একই চত্ত্বরে আরও একটি শহীদ মিনার নির্মানের কথা স্বীকার করে প্রথম শহীদ মিনারটি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেন কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আলী আহমেদ।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌর সভার মেয়র মোঃ আব্দুল জলিল আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত জেলার প্রথম শহীদ মিনারটি সংরক্ষণে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য,কাদামাটি দিয়ে তৈরী শহীদ মিনারটি ১৯৫৬ সালে ইট সিমেন্ট দিয়ে পূনঃ নির্মাণ করা হয়। ৭১’ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনী এই স্মৃতিকে মুছে ফেলতে এটিকে গুড়িয়ে দিলেও দেশ স্বাধীনতার পর আবারও তা পুণঃ নির্মিত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ