আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মেক্সিকোতে ভূমিকম্প আঘাত হানা এলাকা পরিদর্শনের সময় সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তারা ওই এলাকায় যাচ্ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবারের এ ঘটনায় বেঁচে গেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলফোনসো নাভারেতে ও ওয়াহাকা রাজ্যের গভর্নর আলেহান্দ্রো মুরাত।
এ দুর্ঘটনায় তিনি ও গভর্নর মুরাত গুরুতর কোনো আঘাত পাননি বলে টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তেলেভিসাকে জানিয়েছেন মন্ত্রী নাভারেতে।
হেলিকপ্টারটি সান্তিয়াগো জামিউতেপ্যাকির খোলা মাঠে ল্যান্ড করার সময় দুটি ভ্যানের ওপর পড়ে বিধ্বস্ত হয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
হেলিকপ্টারে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রক্ষা পেলেও নিচে থাকা ১২ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, অপর দুইজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ওয়াহাকার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর। এ ঘটনায় আরো ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ওয়াহাকা রাজ্য ও মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি কেঁপে ওঠে। এরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে মেক্সিকোতে দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে অত্যন্ত কয়েকশ লোক নিহত হয়েছিলেন। তখনকার ওই ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবনগুলো এখনও পড়ে আছে। পৃথিবীর ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে মেক্সিকো অন্যতম।
মেক্সিকোয় ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
মেক্সিকো সিটি: উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজাধানী শহর মেক্সিকো সিটিও। ছয় মাসের ব্যবধানে এটি দেশটিতে তৃতীয় বড় ভূমিকম্প।
ইউএসজিএস এর তথ্যমতে, ৭.২ মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ওজাকা রাজ্যের পিনোটেপা ডি ডন লুইস। যার গভীরতা ছিল ২৪.৬ কিলোমিটার।
প্রাথমিকভাবে এ ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তাই জারি করা হয়নি সুনামি সতর্কতা।
ভূমিকম্প আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী মেক্সিকো সিটির বিপদসংকেত বেজে ওঠে। কেঁপে ওঠে নগরের বাড়িঘর। ওয়াক্সাকা, গুয়েরেরো, পিউবলা ও কিওক্যাম রাজ্যেও এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। মেক্সিকো সিটির রাস্তা হয়ে ওঠে জনারণ্য। লোকজন গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পের কথা স্মরণ করতে শুরু করে। সে সময়ের ভূমিকম্পে প্রাণ যায় ৪৬৫ জন মানুষের।
মেক্সিকো সিটির বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী কেভিন ভালাডোলিড বলেন, ‘বিপদসংকেত বাজার সঙ্গে সঙ্গে সত্যি আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। আমি একেবারে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো ভূমিকম্পের পর টুইট বার্তায় বলেছেন, ভূমিকম্পের মাত্রা বিবেচনা করে দুর্যোগ প্রশমনে নিয়োজিত ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটিকে সক্রিয় করা হয়েছে।
ইমার্জেন্সি কমিটি বলেছে, ভূমিকম্পে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির কথা জানা যায়নি।