সিসি ডেস্ক, ২ মার্চ: নারায়ণগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য ২০ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার সেই পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই শাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শাহাবুদ্দিন পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরস্থ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হলেও শুরু থেকে পুলিশ পুরো বিষয়টি গোপন রাখে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি পুলিশের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাইতুল্লাহ মসজিদের পূর্বপাশে গালাক্সি স্কুলের ভেতরে প্রত্যাশা নামে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের কথা বলে একটি কোচিং সেন্টার খোলেন পুলিশের ঢাকার বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন।
বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টবল পদে চাকরি দেয়া কথা বলে স্বদেশ, সিয়াম, মোস্তাকিম, রায়হান, তৌহিদ, মারুফা আক্তার মলি, রুবেলসহ ২০ জন সদস্যদের কাছ থেকে ৪ লাখ করে সর্বমোট ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বাদশা ও শাহাবুদ্দিন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ফতুল্লার পুলিশ লাইনসের মাঠে প্রথম ধাপে শারীরিক ফিটনেসের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
২৪ ফেব্রুয়ারি শারীরিক পরীক্ষায় অর্থ প্রদানকারী যুবকদের অনেকেই বাদ পড়লে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনার পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে আটক করা ১৪ জন পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের জানায়, ‘এএসআই শাহাবুদ্দিন ও বাদশা তাদেরকে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের কথা বলে প্রথমে কোচিংয়ে ভর্তি করায়। এরপর পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে জনপ্রতি ৪ লাখ টাকা করে নেয়। তবে প্রথম ধাপে অর্থাৎ শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষায় অনেকেই বাদ পড়ে যান। আর এতেই তাদের প্রতারণার বিষয়টি এলাকায় ফাঁস হয়।’
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বন্দর থানায় ঘুষ প্রদানকারী স্বদেশ ভূইয়া বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন, ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের নিশং এলাকার শাহাবুদ্দিন ও একই এলাকার মোশারফের পুত্র বাদশা।
এদিকে, ওই মামলা দায়েরের পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিনকে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে আসার পথে ফতুল্লার শিবুমার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদ মোবারক।
তিনি বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অবগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতারের পরপরই এএসআই শাহাবুদ্দিন বুকের বাম পাশে ব্যথা অনুভব করে ও বমি করলে প্রথমে তাকে শহরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যা হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ হাইকেয়ার ইউনিটের ৩য় তলার ১১ নং বেডে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উৎস: পরিবর্তন