।। শাহ্ আলম শাহী ॥ দিনাজপুরের বিরলে রুপালী বাংলা জুট মিলে অগ্নিকান্ডের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিকে রুপালী বাংলা জুট মিলে অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিয়ে ধ্রুবজাল সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জন বিভিন্ন বিরুপ মন্তব্য করছে,এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায়। জুট মিলের মালিক মো.আব্দুল লতিফ জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া এবং তার আচার-আচরণ নিয়েও কথা উঠেছে। কিন্তু জুট মিলের মালিক মো.আব্দুল লতিফ বলছেন,ভিন্ন কথা। জুট মিলে অগ্নিকান্ডের ঘটনা তদন্তে দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম রওশন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ, দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আকতার হানিফ খান ও কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক মো. জুলফিকার আলী।
মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পৌর শহরের রবিপুর হুসনা এলাকায় রুপালী বাংলা জুট মিলে আগুন লাগে। এসময় আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে মিলের ভেতরে বেশ কয়েজন শ্রমিক আটকা পড়েন। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দিনাজপুর ও সেতাবগঞ্জের পাঁচটি ইউনিট আটকে থাকাদের উদ্ধার করে। টানা ৯ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ১২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জুট মিলেন মালিক মো.আব্দুল লতিফ বিরল উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। সাধারণ শ্রমিক থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক আব্দুল লতিফের উখাণ নিয়ে রয়েছে নানা চমকপ্রদ কাহিনী। ব্যাংকেও রয়েছে তার শত কোটি টাকার ঋণ। এ নিয়ে বেশ দুঃচিন্তায় ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ তার রুপালী বাংলা জুট মিলে আগুন লাগার ঘটনায় ততটা উদ্বিগ্ন নন তিনি বলে জানান,তার ঘনিষ্টজনেরা। তবে স-ুসংবাদ হলো,কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্সের আওতায় দূর্যোগ ও অগ্নিকান্ডের ক্ষয়-ক্ষতি’তে ইনস্যুরেন্স করা রয়েছে রুপালী বাংলা জুট মিলের।
এ বিষয়ে জুট মিলেন মালিক মো.আব্দুল লতিফের সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে এ আগুন লেগেছে। দিনের বেলায় এ অগ্নিকান্ড ঘটায় এবং দেয়াল ভেঙ্গে আটকে পড়াদের বের করতে সক্ষম হওয়ায় প্রাণহানী থেকে রক্ষা পেয়েছেন কয়েক’শ শ্রমিক। এ জন্য তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৩’শ কোটি টাকার পন্য,কাঁচা মাল ও মেশিন যন্ত্রপাতি রয়েছে সেখানে। আনুমানিক প্রায় ২’শ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে তার ধারণা।