সিসি নিউজ, ৯ মার্চ: সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন কাকলী মহাজন নামে এক গৃহবধু। অপরদিকে ওই গৃহবধুর হাতে হেনস্থা হওয়ার অভিযোগ করছেন স্টেশনের কর্মরত টিসি নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরজমিনে স্টেশনে গিয়ে টিসি নাসির উদ্দিনের অফিস কক্ষে দেখা মিলে কাকলী মহাজনকে। সে রাজশাহীর রাজপাড়া এলাকার আলীগঞ্জ পূর্বপাড়ার বাবু মহাজনের কন্যা। কাকলী জানায়, রাজশাহী স্টেশনে নাসির উদ্দিন কর্মরত অবস্থায় দুজনেই প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এরপর উভয়ের সম্মতিতে গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্রে বসবাস করে আসছিল। বিয়ের কয়েক সপ্তাহ পর নাসিরের পরিবর্তন লক্ষ্য করে কাকলী। এসময় জোর পূর্বক বিয়ে দেয়ার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করে নাসির। তারপর রাজশাহী থেকে বদলী হয়ে চলে আসে সৈয়দপুরে। কাকলীর বিরুদ্ধে মামলা আর যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় বারবার ওই গৃহবধু স্বামী নাসিরের কাছে ছুটে আসে। কিন্তু নাসির তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার না করায় সৃষ্ট হয় দ্বন্দ্ব। স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিসি নাসিরের কক্ষে অবস্থান নেয়। রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাকলী স্টেশনে অবস্থান করছে।
বিয়ের কাবিননামা দেখিয়ে কাকলী মহাজন বলেন, আমার বাবা ছাড়া আর কেউ নেই পৃথিবীতে। দুজনের সম্মতিতে বিয়ে করেছি। অথচ সে বিয়ে বাতিলের মামলা করেছে আদালতে। কাকলীর অভিযোগ, নাসির অন্য মেয়ের প্রেমে পড়েছে এবং বিয়ে করার চেষ্টা করছে। তাই স্বামীর কাছে ছুটে এসেছি। কিন্তু সে উল্টো আমাকে লোকজনের সামনে বেধড়ক পিটিয়েছে।
রাজশাহীর চারঘাটের হলিদাগাছি এলাকার আকবর আলীর পুত্র টিসি নাসির উদ্দিন বলেন, পরিচয়ের সূত্র ধরে কাকলী আমাকে ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক কাবিননামায় স্বাক্ষর নেয়। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সরকারী কাজে থাকা অবস্থায় সে এখানে এসে আমাকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেই যাচ্ছে।
তবে স্টেশনে দীর্ঘ ৯ ঘন্টা ধরে প্রকাশ্যে উভয়ের মাঝে হাতাহাতি ও কথা কাটাকাটি বিষয়টি দৃষ্টিকটু বলছে সাধারন যাত্রীরা। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: এমদাদুল হকের সাথে। রেলওয়ে স্টেশনে সৃষ্ট ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।