• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

অনেক আগেই বাড়ি ছেড়েছিলেন সাগর

মোমেন মুনি, জয়পুরহাট: হলি আর্টিজানে হামলার অনেক আগেই বাড়ি ছেড়েছিল জেএমবি সদস্য হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে আবু ওয়াক্কাস। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে ২০১৩/১৪ সালে জেএবি নেতা তামিমের হাত ধরে জেএমবিতে নাম লেখান সাগর। গ্রামের মানুষের কাছে একজন ভাল ছেলে হিসাবে পরিচিত ছিল সাগর যদিও গ্রামে সাগর নামে তাকে কেহই চিনেনা। বুধবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে কখনো ধরা পড়েননি তিনি।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পলিকাদোয়া কয়রাপাড়া গ্রামের পল্লি চিকিৎসক হারুনুর রশিদ ও মা আছিয়া খাতুনের ৫ সন্তানের মধ্যে সাগর ছিল দ্বিতীয় সন্তান। গ্রামের মাদ্রাসায় দাখিল পাশ করে আলিম ফেল করেন তিনি। অভাবের সংসারে টানা পোড়েন লেগেই থাকত এ নিয়ে মায়েল সাথে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সাগর বাড়িতে আর ফিরবেন না বলেও জানান। পরবর্তীতে ঢাকায় একটা কোম্পানীতে চাকরি করে বলে পরিবারকে জানান, মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসতেন কিন্তু বাবা-মা’কে কোন টাকা পয়সা দিতেন না তিনি। এক পর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন সাগর।

গ্রামেই একটা ছোট মুদির দোকান চালায় মা আছিয়া খাতুন আর বাবা কাদোয় মোড়ে একটা ছোট ঔষধের দোকান করে যদিও প্রতিবন্ধী হিসাবে তেমন চলাফেরাও করতে পারেনা সাগরের বাবা ডাঃ হারুন। সাগরের মা আছিয়া খাতুন জানান, তার দুই ছেলের কেহই তাদের দেখা শুনা করে না, তারপরেও সাগরকে অনেক খুঁজেছেন তারা। ২০১৬সালে পুলিশ সাগরের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে এবং বেশকিছু তথ্য নেয় তার কাছ থেকে। ছেলের নিখোঁজে থানায় জিডিও করেন সাগরের মা আছিয়া খাতুন কিন্তু পুলিশ কোন সন্ধান দিতে পারেনি তার। তবে মাঝে মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের বাড়িতে আসত এবং বিভিন্ন ধরনের কথা-বার্তা বলত। কেউ কেউ টাকা পয়সাও দাবী করত বলে জানান সাগরের মা।

সাগরের চাচী কবিতা খাতুন জানান, সাগর সবার সাথে মিলেমিশে থাকতেন তার ব্যবহার খুব ভাল ছিল। প্রতিবেশি ইসতামুল, আঃ সবুরসহ কয়েকজন জানান, হাদিসুর খুব শান্ত ছেলে, নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং সকলের সাথে খুব ভাল ব্যবহার করতেন। তিনি জেএমবি দলের সদস্য এমন কোন কাজ বা আচরন কারো সাথে করেননি। সংবাদ মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, হাদিসুর জেএমবি সদস্য এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। জেএমবি সম্পৃক্ততা আছে এমন কোন তথ্যই দিতে পারেনি কেহ। পুলিশের হাতে গ্রেফতার দেখে অনেকেই হতবাকও হযেছেন।

স্থানীয় একটি সুত্র জানায়, হাদিসুর বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর কুষ্টিয়া এলাকায় বসবাস করতেন এবং পাবনাতে বিয়ে করেন। তার মা জানান, একবার ছেলের বউকে নিয়ে এসেছিল সাগর তাও অনেক আগে। তারপর কোথায় থাকতেন, কি করতেন কিছুই জানানি তিনি।

বেশ ক’বছর ধরেই পুলিশ এলাকা থেকে নিখোঁজ সন্তানদের একটা তালিকা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছে কিন্তু কারো কোন খবরই বের করতে পারেনি তারা। হাদিসুর ধরা পড়ার আগে তার সম্পর্কে কোন তথ্যই ছিলনা পুলিশের কাছে, তবে তিনি যে জঙ্গী দলের সদস্য সেটা অনেক আগেই নিশ্চিত হয় পুলিশ।

জয়পুরহাটের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, হাদিসুর সম্পর্কে পুলিশ অনেক আগেই অনুমান করেছিল যে, সে জঙ্গী দলে আছে, তবে খুঁজে বের করতে পারেনি তারা। পুলিশ হাদিসুরের বাবা ডাঃ হারুনকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে হাদিসুর জেএমবি দলে যোগ দিতে পারে। তবে হাদসুর পরবর্তীতে সাগর নাম করন হওয়ায় সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য ছিলনা জয়পুরহাট পুলিশের হাতে।

দীর্ঘদিন থেকে পলাতক হাদিসুর হলি আর্টিসানে হামলার সমন্বয়ক এবং অস্ত্র জোগানদাতা হিসাবে স্বীকৃত। ২১ মার্চ রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে জেএমবি নেতা তামিমের হাত ধরে জেএমবিতে যোগ দেন সাগর। বিভিন্ন সময় নাম পরিবর্তন করায় তাকে কেউ চিনতে পারেনি। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি জেলা জেলা থেকে তার স্ত্রীকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যমতে সাগরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ