সিসি ডেস্ক: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা সহ ৭ জন সহকারী শিক্ষা অফিসার ও ৩ জন অফিস সহকারী বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) কেউ অফিস করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনভর তারা কেউ অফিসে এসে একটিবারের জন্য পা ফেলেননি। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে অফিসের ফাইলপত্র হারিয়ে যাওয়ার আশংঙ্কায় দুপুরে বাধ্য হয়ে অফিসে তালা লাগিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান।
উপজেলা পরিষদের একাধিক সুত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একজন অস্থায়ীভাবে কাজ করেন তহমিনা বেগম নামের এক মধ্য বয়সী মহিলা। তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টায় এসে অফিস খুলেন ও বিকালে বন্ধ করেন। ওই মহিলা কোন সরকারী কর্মচারী নন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় অফিস খুলে ওই মহিলা অফিসের বারান্দায় বসে ছিলেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত অফিসের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা সহ ৭ জন সহকারী শিক্ষা অফিসার ও ৩ জন অফিস সহকারী কেউ অফিসে আসেননি। বিভিন্ন স্কুলের বেশ কিছু শিক্ষক স্কুলের কাজে অফিসে এসে বিরম্বনায় পড়েন। বিষয়টি বুঝতে পেরে অফিসের জরুরী ফাইল পত্র যাতে খোয়া না যায় এই চিন্তা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তালা লাগাতে বাধ্য হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত অফিসে থাকার কথা থাকলে এই অফিসের কর্মকর্তারা সকাল ১১টায় অফিসে আসেন আবার বিকাল সাড়ে তিনটার আগেই অফিস ছেড়ে বেড়িয়ে যান। কিন্তু বৃহস্পতিবার কোন কর্মকর্তা বা অফিস সহকারীরা কেউ অফিসেই আসেননি।
এ ব্যাপরে কথা বলা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এসএম মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন,প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কাউকে না পেয়ে অফিসে তালা লাগিয়ে দিতে হন। কারন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের নির্মান কাজ চলছে। নির্মাণ কাজে বেশ কিছু পুরুষ শ্রমিক কাজ করছিল। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পাহাড়ায় এক মহিলা ছিল। এ ছাড়া ফাইলপত্র চুরি হয়ে যেতে পারে এবং ওই মহিলার নিরাপক্তার বিষয়টি মাথায় রেখে অফিসের তালা লাগানো হয়েছে। বিষয়টি আমি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।
অপর দিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান মোবাইলে সাংবাদিকদের বলেন, আমি শারিরিকভাবে অসুস্থ তাই বৃহস্পতিবার একদিনের ছুটিতে আছি। আপনি ছুটিতে কিন্তু অন্যান্য কর্মকর্তারা অফিসে নেই কেন প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করে বলেন অফিসে বস না থাকলে যা হয়।
এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা( ডিপিও) সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সরকারি মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তার ব্যাক্তিগত মোবাইলে কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।