অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে ঘরের টিনের চাল ছিদ্র হয়ে যাওয়ার দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এ সুযোগেই টিন বিক্রেতারা ঢেউটিনের দাম বান্ডিলপ্রতি দুই শত থেকে তিন শত টাকা বাড়িয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার নাগেশ্বরী পৌরসভা এলাকা, রামখানা, রায়গঞ্জ, নেওয়াশী, সেনপাড়া, বামনডাঙ্গা, গাগলা ও কালিগঞ্জে ঝড় হাওয়ার সাথে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি বর্ষিত হয়। এছাড়াও ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কদমেরতল, বালাবাড়ি ও অনন্তপুরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার শিলাবিৃষ্টি থামার শনিবার দিনব্যাপী প্রতিটি টিনের দোকানে ক্রেতাদের উপড়ে পড়া ভির দেখা গেছে। এ সুযোগেই টিন বিক্রেতারা ঢেউটিনের দাম বান্ডিলপ্রতি দুই শত থেকে তিন শত টাকা বাড়িয়েছেন।
শনিবার বিকেলে ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট বাজারে ঢেউটিন কিনতে ক্রেতা বেলাল হোসেন, রেজাউল ইসলাম, শরৎ চন্দ্র জানান, ঘরের চাল শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। টিন কিনতে এসে টিনের দামা শুনে মাথাই ঘুরছে। থাকার ঘর নষ্ট হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই বান্ডিল প্রতি ২০০ টাকা বেশি দিয়ে ঢেউটিন কিনতে হল।
একই উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ক্রেতা জিয়াউর রহমান জানান, ঢেউটিন কিনতে আসলাম ভাই। কি বলবো ভাই এসে দেখি ঢেউটিনের বাজারে আগুন জ্বলছে। বান্ডিল প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দরে টিন বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। এতো বেশি দামে টিন বিক্রয় করলে গরীব মানুষ টিন কিনবে কিভাবে।
ফুলবাড়ীর বালারহাট বাজারের টিন বিক্রেতা আবু-তালেব জানান,বান্ডিল প্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা ঢেউটিন বিক্রি করছি। তবে আগে থেকেই টিন, রট, সিমেন্ট দাম চরা।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, হঠাৎ করে শুক্রবারের শিলাবৃষ্টিতে এ উপজেলার মানুষের ফসলসহ ঘর-বাড়ির ও টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থরা এখন অনেক দুঃখ কষ্ট মাথায় নিয়ে তাদের ঘর-বাড়ি মেরামত করছে। আমরা বাজার মনিটরিং করছি যদি কোন টিন ব্যবসায়ী নিধারিত দামের চেয়ে বান্ডিলপ্রতি ২০০ টাকা বেশি দরে টিন বিক্রি করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে হেবে বলেও জানান তিনি।