খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট ডিগ্রী কলেজ ভোকেশনাল কেন্দ্রে গোয়ালডিহি টেকনিক্যাল এন্ড বিসনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ৭ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা শুরুর ৪০ মিনিট পর ৫০০ টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি টেকনিক্যাল এন্ড বিসনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ছাত্র মোঃ এনামুল হক, আঃ রাহাত, হিটলার রায়, মোঃ আল-আমিন, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোঃ মাসুদ ও মোস্তাকিমের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরারর স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফরম ফিলাপের সময় প্রত্যেক ছাত্রদের কাছে ৩ হাজার টাকা করে নিয়ে অধ্যক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের পরবর্তীতে আর কোন টাকা না নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। সেই মোতাবেক ছাত্ররা পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র নিতে গেলে আবারো অধ্যক্ষ অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দাবি করেন এবং ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, “যারা টাকা নিয়ে আসো নাই তারা বাড়িতে চলে যাও। টাকা নিয়ে এসে প্রবেশপত্র নিয়ে যেও।” কিন্তু ছাত্ররা আগের দেওয়া সেই আশ্বাসের কথা বললে অধ্যক্ষ আবারো জানিয়ে দেন, “টাকা ব্যতীত কোন প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না। ” পরে ছাত্ররা ২০০ টাকা করে দিতে চাইলে অধ্যক্ষ আবারো ছাত্রদের সাফ জানিয়ে দেন, ” ৫০০ টাকার এক টাকা কম হলেও প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না। বেকার ঘুরাঘুরি করে কোন লাভ নেই, বাড়ি যাও, টাকা নিয়ে এসে প্রবেশপত্র নেও। ” তিনি আরো বলতেন, তোমরা যদি কম টাকা দেও, তোমাদের বাস্তব প্রশিক্ষণের নম্বর কম দেওয়া হবে। ” এভাবে পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত কলেজে যাই আর ঘুরে আসি। শেষে প্রবেশপত্র ছাড়াই পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে কেন্দ্র সচিব বের করে দেন। পরে পরীক্ষা শুরুর ৪০ মিনিট পর বাড়ি থেকে টাকা সংগ্রহ করে কলেজে গিয়ে প্রবেশপত্র নিয়ে এসে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করি।
এ বিষয়ে পরীক্ষার্থী এনামুল হক বলেন, পরীক্ষা শুরুর পর টাকা না পেয়ে আমি তো আমার ফুফাত ভাই শফিক ও এক ছোট ভাই প্রিন্সকে কলেজের প্রভাষক জিতেন এর কাছে জিম্মায় রেখে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেছি। পরে প্রবেশপত্র বাবদ টাকা দিয়ে তাদেরকে আসতে হয়েছে।
গোয়ালডিহি টেকনিক্যাল এন্ড বিসনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মুজিবর রহমান ও প্রভাষক জীতেনের সাথে কথা হলে তারা প্রথমে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাংবাদিকদের সামনে অস্বীকার করেন, পরে ফরম ফিলাপে বাকি টাকা পাওনার কথা বললেও শেষে স্বীকার করেন মিষ্টি খাওয়ার জন্য ছাত্রদের কাছে ৫০০ টাকা করে চাওয়া হয়েছে। তবে ১৯৪ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে টাকা দেন নি বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে পরীক্ষা শেষে কয়েকজন পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কম-বেশি প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছেই প্রবেশপত্র বাবদ ৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান ও প্রভাষক জীতেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, বিষয়টি খোজ খবর নিয়ে অনেকটাই সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এখন বিষয়টি আরো তদন্ত করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।